ঈশ্বরদীর দুই অদম্য মেধাবীর উচ্চ শিক্ষায় বাধার প্রাচীর

0

সেলিম সরদার, ঈশ্বরদী// এবারের এইচএসসি পরীায় ঈশ্বরদীর পাকশী রেলওয়ে কলেজ থেকে জিপিএ ৫ পেয়েও আরিফা ও তামান্নার মুখে হাসি নেই। তাদের পরিবারেও নেই আনন্দ উচ্ছাস। কারণ হিসেবে জানা গেলো এই দুই অদম্য মেধাবীর পরিবারই দারিদ্রতার কষাঘাতে জর্জরিত।
আরিফা ও তামান্না নিজেরা টিউশানি করে এতদিন নিজেদের লেখাপড়া চালিয়ে এলেও এখন উচ্চ শিার জন্য যে খরচ তা বহন করার মত অবস্থা নেই দুটি পরিবারেই। তামান্না আফরোজের বাবা চিন্তা করছেন শেষ সম্বল এক টুকরো জমি বিক্রি করে মেয়েকে উচ্চ শিায় শিতি করে তুলতে আর আরিফার বাবা নিজে অশিতি হওয়ায় মেয়েকে চান উচ্চ শিায় শিতি করতে কিন্তু সে পথও রুদ্ধ হতে চলেছে।
আরিফা খাতুন : ঈশ্বরদীর পাকশী রেলওয়ে কলেজ থেকে এবারের এইচ এসসি পরীায় জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তির্ন হওয়া অদম্য মেধাবী আরিফা খাতুন পাকশীর যুক্তিতলা গ্রামের অটোরিক্সাচালক মোঃ আমিনুল ইসলামের একমাত্র মেয়ে।
আরিফার বাবার সংসারে অভাব অনটন সারাবছর লেগেই থাকে, সেকারনে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে সে টিউশনি করে নিজের পড়ালেখার খরচ যোগাতো। এখন উচ্চ শিার জন্য তার ইচ্ছা ইংরেজিতে অনার্স করার কিন্তু সে সামর্থ নেই তার পরিবারের।
আরিফার বড়ভাই নাজমূল ইসলাম এবার একই কলেজ থেকে বিবিএস পরীা দিয়ে রেজাল্টের অপোয় আছেন। নাজমূল জানান, সে নিজে টিউশনি করে এবং গরুর দুধ বিক্রি করে নিজের এবং ছোট বোনের পড়ালেখার খরচ যোগাতেন, লেখাপড়া চালিয়ে যেতে গরুটিও বিক্রি করে দিতে হয়েছে।
সামনে ছোট বোনের উচ্চ শিার হাতছানি, এ জন্য যে পরিমান আর্থিক সংগতি থাকা দরকার তা তাদের পরিবারে নেই, কোথাও ছোটখাটো একটা চাকরি পেলে হয়তো তার এবং বোনের পড়ালেখাটা চালিয়ে যাওয়া যেতো বলে মনে করছেন তিনি।
আরিফার বাবার ইচ্ছা নিজে পড়ালেখা না জানলেও তার ছেলে-মেয়েদের উচ্চ শিায় শিতি করে তুলবার, কিন্তু এই দুর্মূল্যের বাজারে সামান্য অটোরিক্সা চালক হয়ে সেটি প্রায় অসম্ভব, তার অদম্য মেধাবী মেয়েটির পড়ালেখা আর চালিয়ে নিতে না পারার কষ্ট তাকে সবসময় তাড়া করে ফিরছে।
অদম্য মেধাবী আরিফা খাতুন জানায়, কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান কিংবা উচ্চবিত্ত কারো সহযোগিতা পেলে উচ্চ শিা গ্রহণ করে সে তার বাবা ও ভাইয়ের কষ্টের অবসান ঘটাতে পারতো।
তামান্না আফরোজ : একই কলেজ থেকে এবারের এইচ এসসি পরীায় জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তির্ন হওয়া আরেক অদম্য মেধাবী তামান্না আফরোজের বাবা উকিল উদ্দিন ঈশ্বরদীর লীকুন্ডা ইউনিয়নের পাকুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা, তিনি মাঠে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
তামান্না টিউশনি করে এতদিন তার পড়ালেখা চালিয়ে এসেছে, এইচএসসিতে ভালো রেজাল্টের পরও তার মুখে হাসি নেই। তামান্নার ইচ্ছা রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স শেষ করে একটা চাকরী করে তার বাবার কষ্ট লাঘব করতে। কিন্তু বাবার একার উপার্জনে এমনিতেই সংসারে ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়’ অবস্থা।
বাবা উকিল উদ্দিন জানান নিজের শেষ সম্বল একখন্ড জমি বিক্রি করে হলেও মেয়েটিকে তিনি উচ্চ শিায় শিতি করে তুলতে চান কিন্তু এই শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে দিলে তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই থাকবেনা।
মেয়েটির মেধা আছে ইচ্ছা আছে, তিনিও চান মেয়েটি উচ্চ শিায় শিতি হোক কিন্তু আর্থিক অনটনের কাছে পরাজিত হয়ে বাধ্য হয়ে হয়তো মেয়ের পড়ালেখার এখানেই ইতি টেনে দিতে হবে তাকে।
তামান্না ও তার বাবা উকিল উদ্দিন বলেন, মেধার মূল্যায়ন করে হলেও কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান যদি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতো তবে তামান্নার পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব, নইলে হয়তো এখানেই থেমে যাবে তার উচ্চশিার পথ।
তামান্নার ইচ্ছা মেয়ে হয়েও লেখাপড়া করে একটা ভালো চাকরি নিয়ে বাবার কষ্ট লাঘব করতে কিন্তু তার সে ইচ্ছা কি পুরণ হবে ?