লালপুরে জিংক সমৃদ্ধ ব্রি-ধান-২ এর মাঠ দিবস পালিত

লালপুর প্রতিনিধি, সাপ্তাহিক জনদৃষ্টি// ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার লালপুর উপজেলায় বে-সরকারী উন্নয়ন সংস্থা আভা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি ও হারভেস্ট প্লাস বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে স্বল্প জীবনকালে উৎপাদিত জিংক সমৃদ্ধ ব্রি-ধান-৬২ এর মাঠ দিবস উৎযাপিত হয়েছে। উপজেলার অর্জুনপুর গ্রামের আজিজুল ইসলামের বাড়ীতে রুইগাড়ীর আরশাদুর রহমানের সভাপতিত্বে ব্রি-ধান-৬২ আবাদে অংশ গ্রহণকারী কৃষকদের সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুল ইসলাম খান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন হারভেস্ট প্লাস বাংলাদেশ এর এআরডিও সাইফুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর আব্দুর রউফ, সাইফুল ইসলাম রবি, লালপুর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মকবুল হোসেন, জাকারিয়া হোসেন এবং জিয়ারুল ইসলাম। লালপুর উপজেলার রুইগাড়ী, বরমহাটি, অর্জনপুর, ফরিদপুর,আঙ্গারীপাড়া, কলসনগর, হাজিরহাট ও ফুলবাড়ী গ্রামের ৫৫০ জন কৃষকের মাঝে ৪ কেজি করে জিংক সমৃদ্ধ ব্রি-ধান৬২ জাতের ধানের বীজ ও সার বিনা মূল্যে বিতরণ করা হয়। বিতরণকৃত সার-বীজে উৎপাদিত ধানের আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ণের জন্য মাঠ দিবস পালিত হয়। ব্রি-ধান-৬২ গড়ে প্রতি বিঘায় ১৮-২০ মণ ধান উৎপাদন হয়ে থাকে। ১০০ দিনে এই ধান ঘরে তোলা যায়। আবার ব্রি-ধান-৬২ হাইব্রিড জাতের ধান নয় বলে উৎপাদিত ধান থেকে নিজেরাই বীজ সংরক্ষণ করে আবাদ করা যায়। হারভেস্ট প্লাস বাংলাদেশের এআরডিও বলেন, জিংক মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। মহিলাদের দৈনিক ৮Ñ৯ মিলিগ্রাম, শিশুদের ৩Ñ৫ মিলিগ্রাম জিংকের প্রয়োজন হয়। সেখানে বাংলাদেশের মহিলারা মাত্র ৩.৬১ এবং শিশুরা গড়ে ২.৬৭ মিলিগ্রাম জিংক গ্রহণ করে। আমাদের দেশে শতকরা ৪৪ ভাগ শিশু এবং ৫৭ ভাগ মহিলা জিংকের অভাবে অপুষ্টিতে ভুগছে। শিশুকালে ও বয়ো:সন্ধিকালে শারীরিক বৃদ্ধি ও বিকাশে এবং বুদ্ধির বিকাশে জিংক বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ভাতের মধ্যে জিংকের পরিমাণ অল্প থাকায় বায়োফর্টিফিকেশন এর মাধ্যমে জিংক ধান উদ্ভাবন করা হয়েছে যা আমাদের জিংকের অভাব জনিত অপুষ্টি পূরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

*