ভেড়া পালন করে কোয়েল বিশ্বাস এখন স্বাবলম্বী

0

সেলিম আহমেদ// বিলুপ্তপ্রায় নিরীহ পশু ভেড়া। এটি পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন আক্তারুজ্জামান ওরফে কোয়েল বিশ্বাস। বছরে তিনি লাখ টাকা আয় করেন। উপজেলার লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের বিলকেদার গ্রামের তোরাব আলী বিশ্বাসের ছেলে তিনি। ২০১০ সালের দিকে শখ করে নিজ বাড়িতে একটি ভেড়া পালন শুরু করেন। একটি ভেড়া থেকে তাঁর এখন ১২৬টি ভেড়া। এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে কোয়েল বিশ্বাস এখন সামনে এগুচ্ছেন। শতাধিক ভেড়া পশুর মালিক হওয়ায় তিনি একটি খামার প্রতিষ্ঠা করেছেন। নাম দিয়েছেন ‘বিশ্বাস ভেড়া খামার’। কোয়েল বিশ্বাস ইতিমধ্যে এ অঞ্চলের একজন আদর্শ ভেড়া চাষি হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি ভেড়া চাষ বিষয়ে প্রশিণও নিয়েছেন দুইবার। তাঁর দেখাদেখি আশপাশের বেকার কিছু যুবক পরামর্শ নিয়ে ভেড়া চাষ শুরু করেছে। ভেড়া চাষি কোয়েল বিশ্বাস জানান, শখ করে একটি দিয়ে ভেড়া পালন শুরু করি। ছোট-বড় মিলিয়ে আমার বিশ্বাস ভেড়া খামারে ১২৬টি ভেড়া রয়েছে। দুইজন কেয়ার টেকার বেতনভুক্ত হিসেবে সার্বণিক কাজ করছেন। খামারের ভেড়া লালন পালন করে বড় করে এ পর্যন্ত প্রায় চার লাখ টাকার ভেড়া বিক্রি করেছেন বলে কোয়েল বিশ্বাস জানান। কোয়েল বিশ্বাস একজন ভাল মানুষও। ভেড়া থেকে উপার্জিত অর্থ তিনি গরিব মেধাবী শিার্থীদের পড়া-লেখার খরচের জন্য, কন্যা দায়গ্রস্থ পিতাকে এবং অসুস্থ রোগীদের অর্থ সহযোগিতা করে থাকেন। তিনি বলেন, বাবা ল²ীকুন্ডা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। মানুষকে সহযোগিতা করা শিখেছি বাবার কাছ থেকে। খামারের নিয়মিত ডাক্তার মোঃ ইন্তাজ আলী বলেন, কোয়েল বিশ্বাসের খামারে বর্তমান ১২৬টি ভেড়া রয়েছে। আগামী মাসে আরও ২০টি ভেড়া জন্মলাভ করবে। তিনি বলেন, অন্য প্রাণীদের চাইতে ভেড়ার রোগবালাই কম। উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা মহির উদ্দীন বলেন, ভেড়া প্রায় বিলুপ্ত প্রাণী। ভেড়ার মাংসে আশ কম থাকে। খেতে বেশ সুস্বাদু। ভেড়ার খামার করে কোয়েল ঈশ্বরদীতে পরিচিতি লাভ করেছেন। ভেড়া চাষে খরচ কম লাগে। অন্য প্রাণীর চাইতে ভেড়ার রোগ বালাইও অনেক কম হয়। বিশ্বাস ভেড়া খামারের মালিক কোয়েল বিশ্বাস ভেড়া পালনে বেশ সচেতন। এ ব্যাপারে সহযোগিতা, পরামর্শের জন্য প্রাণীসম্পদ অফিসে তাঁর সার্বণিক যোগাযোগ রয়েছে। নিয়ম মেনে চললে তিনি আরও ভালো ফলাফল পাবেন বলে এ কর্মকর্তা উলে­খ করেন।