সৌদি আরবে মীনা ট্রাজেডি
পাকশী ফুরফুরা শরীফ মাদ্রাসার মহ্তামিম ইদ্রিস আলীর সন্ধান মেলেনি

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাপ্তাহিক জনদৃষ্টি// সৌদি আরবে মীনা ট্রাজেডির ২২দিন পরও পাকশী ফুরফুরা শরীফের জামিয়াতুল কোরআনুল করিমের মাদ্রাসা মহ্তামিম মো: ইদ্রিস আলী ফিরে আসেনি। নিশ্চিত খোঁজ পাওয়া যায়নি তিনি জীবিত না মৃত? এ নিয়ে তাঁর পরিবার দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। মাদ্রাসা সুত্রে জানা যায়, ইদ্রিস আলী দীর্ঘদিন ধরে ফুরফুরা শরীফের মাদ্রাসার মহ্তামিমের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ঝিনাইদহ সদর থানার পুরাহাট গ্রামে তাঁর দেশের বাড়ি। মাদ্রাসায় থাকার কারণে তাঁর পাসপোর্টে পাকশীর ঠিকানা উলেখ করা হয়েছে। তিনি পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে ২৩ সহযাত্রীর সঙ্গে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবে রওনা হন। ইদ্রিস আলীর সঙ্গে তাঁর পরিবারের লোকজনের সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয় ঈদের আগে বুধবার রাত ১২টার দিকে। এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে কোন যোগাযোগ হয়নি কারো। ওই মাদ্রাসার ছাত্র ইদ্রিস আলীর ছেলে মাহদী আবদুলাহ জানান, গত ২৪ সেপ্টেম্বর মীনা ট্রাজেডির পর থেকে তাঁর বাবার কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। এরপর থেকে বিভিন্নভাবে তাঁর খোঁজ করা হয়। ইদ্রিস আলীর পাসপোর্ট নাম্বার ‘বিসি-০৪০৯২৭১৭। মাহদী জানান, ‘হলিউড ট্যুরস এন্ড ট্র্যাভেলস’ নামে এজেন্সিতে যোগাযোগ করা হলে মালিক রুহুল আমিন তাকে সান্তনা দেন ও সঠিক কোন তথ্য না দিয়ে অপো করতে বলেন। হজ টিমের গাইড আব্দুল করিম গত ৯ সেপ্টেম্বর ফোন দিয়ে তাকে বলেন, ইদ্রিস আলীর কোন খোঁজ পাচ্ছেন না। হয়তো তিনি মারা যেতে পারেন। হজ্বের সহযাত্রীরাও খোঁজ-খবর করতে থাকেন। কিন্তু কেউ সঠিক সন্ধান দিতে পারেন নাই। সৌদিতে বাংলাদেশি দূতাবাস, ঢাকায় বিভিন্ন এজেন্সি ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হলেও এ বিষয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব অফিসে আহত বা নিহতের তালিকায় কোথাও তাঁর বাবার নাম ছিল না। গত বৃহস্পতিবার রাতে সৌদি থেকে এই হজ দলের গাইড আব্দুল করিম তাকে মুঠোফোনে জানান, ইদ্রিস আলী হয়তো বেঁচে নেই। মারা গেছেন। মীনার দূর্ঘটনায় আহত হওয়ায় তিনি কিং ফয়সাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কোন এক সময় তিনি মারা গেছেন। তাকে কবর দেওয়া হয়েছে। তবে কত তারিখ বা কখন মারা গেছেন- এ প্রশ্নের জবাবে নিশ্চিতভাবে কিছু জানাতে ব্যর্থ হন আব্দুল করিম। মাহদী আব্দুলাহ অভিযোগ করেন, মীনা ট্রাজেডির ২২দিন অতিবাহিত হলেও বাংলাদেশ বা সৌদি দূতাবাস থেকে তাদের কিছুই জানানো হচ্ছে না। এ নিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা দুশ্চিন্তায় আছেন। পাকশী ফুরফুরা শরীফ মাহফিল পরিচালনা কমিটির কার্যকরী সভাপতি গোলাম কিবরিয়া জানান, সৌদি থেকে অসমর্থিত সুত্রে আমরা ইদ্রিস আলীর মৃত্যুর খবর পেয়েছি। কিন্তু সরকারিভাবে এ বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সৌদিতে ইদ্রিস আলীর এখনও সন্ধান না পাওয়ায় ফুরফুরা শরীফের মাদ্রাসা ও এখানকার এতিমখানার সংশ্লিষ্টরা ভীষণ দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।