কুরবানীর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও তত্ত্ব

0

হাফেজ মুফতী মতিউর রহমান
কুরবানী শব্দের অর্থ নৈকট্যলাভ বা যে বস্তু দ্বার আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়। চাই তা যবেহকৃত হোক বা অন্য কোন দান খয়রাত হোক। শরিয়তের পরিভাষায় কুরবান বলা হয় আল্লাহর নৈকট্য লাভে যা নিবেদন করা হয়। তা জন্তু হোক বা অন্য কিছু। আর প্রচলিত ভাষায় আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে কতগুলো নির্ধারিত হালাল পশু, নির্ধারিত সময়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় যবেহ করে দেয়া। হযরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত প্রতিটি ধর্মে প্রতিটি যুগে কুরবানীর নিয়ম চালু রয়েছে। যদিও একেক ধর্মের নিয়ম পদ্ধতি একেক রকমের। কুরআন পাকে হযরত আদমপুত্র হযরত হাবিল ও কাবিলের কুরবানীর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা পাওয়া যায়। সুরা সাফায়াতে হযরত ইব্রাহীম (আ.) কর্তৃক পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.) কে কুরবানীর যে বিবরণ রয়েছে তা ইতিহাসের এক স্বরণীয় অধ্যায়। প্রকৃতপক্ষে ইসলামী শরিয়তের কুরবানী একে কেন্দ্র করেই আবর্তিত। সাহাবায়ে কেরাম একদা রসুল (স.) এর সমীপে আরজ করেন, ইয়া রাসুলল্লাহ কুরবানী কি? উত্তরে রসুল (স.) এরশাদ করেন, তোমাদের পিতামহ ইব্রাহীম (আ.) এর সুন্নাত। সাহাবায়ে কেরাম পুনরায় আরজ করেন এই কুরবানী দ্বারা কি পাওয়া যায়? উত্তরে নকী (স.) বলেন, প্রতিটি লোমের বিনিময়ে একটি করে নেকি। এই হাদিসের ব্যাখ্যায় উল্লেখ আছে কুরবানী পূর্ববর্তী শরিয়তের এমন এক ইবাদত যা ইসলামী শরিয়তেও বহাল রেখেছে। কালামপাকে আল্লাহপাক এরশাদ করেন, আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কুরবানীর নিয়মজারি রেখেছি। যাতে তারা আমার দেওয়া চতুষ্পদ পশুর উপর আমার নাম নেয়। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কুরবানীর নিয়ম সকল আসমানী ধর্মে বিধিবদ্ধ করে দেওয়া হয়। তাফসীর হক্কানীতে উল্লেখ আছে হযরত মুসা, হযরত ইয়াকুব, হযরত ইছাহক, হযরত ইব্রাহীম (আ.) এর শরিয়ত সমুহে কুরবানী করা ধর্মের আইনরুপে স্বীকৃত ছিল। বহুতর বিকৃত বর্তমান বাইবেলেও কুরবানীর উল্লেখ রয়েছে অনেক জায়গায়। মানব ইতিহাসের সর্বপ্রথম কুরবানীর প্রচলন হয় হযরত আদম পুত্রদ্বয় হাবিল ও কাবিলের হাতে। হযরত নুহ (আ.) এর যুগেও প্রচলিত কুরবানীর উল্লেখ পাওয়া যায় যে, তিনি পশু যবেহ করার জন্য একটি কুরবানগাহ নির্মাণ করেছিলেন। তারপর দুনিয়ার ইতিহাসে নজিরবিহীন কুরবানী পেশ করেছিলেন হযরত ইব্রাহীম (আ.) এবং তার যুগ থেকেই এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে এর প্রচলন শুরু হয়। কিয়ামত পর্যন্ত তার সেই নজিরবিহীন কুরবানীর স্মৃতিকে দুনিয়ার বুকে কায়েম রাখার জন্য আমাদের শরিয়ত প্রত্যেক সামর্থবান লোকের উপর কুরবানী ওয়াজিব করে দেয়।
লেখক : ইমাম, কাচারীপাড়া জামে মসজিদ, ঈশ্বরদী।