প্রশ্নপত্র ফাঁস করে কোটিপতি; শিক্ষার দুর্গতি!

হাবিবুর রহমান স্বপন
আবারও পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে মিছিল ও মানববন্ধন করেছে। ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা নেয়ার দাবিতে ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, ফরিদপুর, খুলনা, দিনাজপুরসহ কমপক্ষে ১৫টি জেলায় আন্দোলনে শরিক হয় শত শত শিক্ষার্থী। সংবাদ সম্মেলন করে তারা নিজেদের বক্তব্যের পক্ষে যুক্তিও তুলে ধরেছেন। ফেসবুকে এ সংক্রান্ত তথ্য মিলবে বলে তারা জানিয়েছেন গণমাধ্যমকে। এছাড়াও মেডিক্যাল কলেজের ১০১ জন শিক্ষক ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল বাতিলের দাবি করে স্বাক্ষর করেছেন।
২০১১ সালেও মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিল। তখন জসিম উদ্দীন নামের একজনকে গ্রেফতার করেছিল র‌্যাব। জামিনে মুক্তি পেয়ে ওই ব্যক্তি আর আদালতে হাজির হন না। আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলেও পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করতে পারে নি। জসিম উদ্দীনকে পুলিশ এবার আবারও গত ১৫ সেপ্টেম্বর প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে গ্রেফতার করেছে। ২০১১-এর ৩০ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ঢাকার মোহাম্মদ ও শ্যামলী থেকে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে ২১ জনকে গ্রেফতার করেছিল। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ব বিদ্যালয়ের প্রভাষক ফিরোজুল ইসলাম এবং ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্র ফেরদৌস আহমেদ ওরফে এমিলকেও রাত আড়াইটায় গ্রেফতার করেছিল র‌্যাব। পরদিন তাদের বিরুদ্ধে শের-এ-বাংলা নগর থানায় মামলা করেন র‌্যাবের এক কর্মকর্তা। দুই মাস তদন্ত করার পর র‌্যাবের সহকারী পুলিশ সুপার নূর ই আলম অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তবে চার্জশীট থেকে বাদ দেয়া হয় জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফিরোজুল ইসলাম এবং ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্র ফেরদৌস আহমেদ-এর নাম। তাদের রাত আড়াইটায় প্রশ্মপত্রসহ গ্রেফতার করার পরও পুলিশ চার্জশীট থেকে নাম বাদ দেয়ার কারন হিসেবে উল্লেখ করে তারা দু’জন কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন! তারা নাকি কৌতুহলবশত ভীড় দেখে সেখানে দাঁড়িয়েছিলেন!
অভিযোগ গঠনের উপাদান না থাকায় মামলার চার্জশীটভুক্ত ১৯ জন আসামীর মধ্যে ১৭ জনকেই আদালত অব্যাহতি দিয়েছে। এখন মাত্র দুই জনের বিচার কাজ চলছে। এই দুই জনের মধ্যেই জসিম উদ্দীন অন্যতম আসামী। প্রশ্নপত্র বিক্রির ব্যবসায় কোটিপতি জসিম উদ্দীন এখনও চুটিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন লাভজনক ব্যবসা। গত ১৫ সেপ্টেম্বর জসিম উদ্দীনের সাথে আরও চার জন গ্রেফতার হয়েছে তাদের মধ্যে ‘ই হক কোচিং’ সেন্টারের সঙ্গে জসিম উদ্দিনের অপর দুই সহযোগী এস এম সানোয়ার এবং এ জেড এম সালেহীন ওরফে শোভন রয়েছে। জসিম উদ্দীন প্রশ্ন ফাঁস করে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকার চেক ও ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের আসল সনদপত্র রেখে দিতো। যাতে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পর অভিভাবকরা টাকা প্রদানে তালবাহানা না করতে পারে। পুলিশ এই চক্রের কাছ থেকে ১ কোটি ২১ লাখ টাকার ১৩ টি চেক উদ্ধার করেছে।
মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় ৫৮ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তীর্ণ হয়েছে। ৪৮ হাজার ৪’শ ৪৮ জন ভর্তির যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। নম্বর প্রাপ্তিতে অসামান্য ভাল করেছে শিক্ষার্থীরা। গত বছর সর্বোচ্চ নম্বর উঠেছিল ৮১ দশমিক ৫০, এবার উঠেছে ৯৪ দশমিক ৭৫। দেশে পাবলিক এবং প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজের আসন সংখ্যা ১১ হাজার ৪৯ টি। দেখা যাচ্ছে ৩৭ হাজার ২’শ ৯৯ জন ভর্তি পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েও ডাক্তারী পড়া পড়তে পারবেন না। উন্নতি হয়েছে মেধার। যা হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পেয়েও না পাওয়ার বেদনায় জর্জড়িত হতে হচ্ছে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে। অপরদিকে যারা কৃতকার্য বা পরীক্ষা দিয়ে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছেন তাদের জীবনভর ভৎর্সনা-খোটা শুনতে হবে ‘ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র’ অনুযায়ী পরীক্ষায় পাস করার জন্য।
ভর্তি পরীক্ষার আগের দিন থেকেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগ ওঠে। ভর্তি পরীক্ষার ফল বাতিল ও পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ করে। অপরদিকে প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টির কোন সুরাহা না করে স্বাস্থ্য অধিদফতর তড়িঘড়ি করে ফল প্রকাশ করেছে। এতে ফুঁসে উঠছে ছাত্র সমাজ। ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের যৌক্তিক সুরাহা না করে স্বাস্থ্য অধিদফতর যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো তাকে কোন ভাবেই ভাল বলা যায় না।
প্রশ্নপত্র কেন ফাঁস হয়? কে বা কারা এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত? সেটি অনুসন্ধান করে বিহীত ব্যবস্থা করার উদ্যোগ না নিয়ে উল্টো ছাত্র-ছাত্রীদের পেটানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিজেদের অপকর্ম ঢাকার জন্য অপরকে দোষারোপ করছে। সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ বিশ্ব বিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কার্যালয় হচ্ছে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের আড্ডাখানা। ছুটির দিনেও চলে তাদের অপকর্মের কারসাজি। র‌্যাব বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কার্যালয় থেকে সহকারী পরিচালক ওমর সিরাজসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। জালিয়াতি চক্রের এসব সদস্যরা চুক্তি করে বিচারক নিয়োগ পরীক্ষা থেকে শুরু করে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং জালিয়াতি করে পাশ করিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করে থাকে। অবাক ব্যাপার ইউ জি সি কার্যালয়ে জালিয়াতি চক্রের অফিস! সর্ষের মধ্যে ভুত!
প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নতুন নয়। ১৯৭৯ সালে এস এস সি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিল। তখন এ নিয়ে দেশ ব্যাপী হুলস্থুল কান্ড ঘটে গিয়েছিল। প্রশ্ন ফাঁসের জন্য বিজি প্রেস কর্মচারিদের সন্দেহ করা হয়েছিল। ব্যাপক বিক্ষোভ ও নিন্দার পর ১৯৮০-তে ‘পাবলিক পরীক্ষা আইন’ সংশোধন করে প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে অভিযুক্তকে দশ বছরের শাস্তির বিধান করা হয়। অজ্ঞাত কারণে ১৯৯২ সালে এই সাজার পরিমাণ দশ বছর থেকে কমিয়ে চার বছর করা হয়।
তবে সর্বাধিক প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে গত ৬ বছরে (২০১১ থেকে ২০১৫-এর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত)। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ঢাকায় মামলা দায়ের হয়েছে ৭০ টি। এতোগুলো মামলা হলেও সাজা কারও হয়নি। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়ের হয়েছে আরও অর্ধশত মামলা। কোন মামলারই অপরাধী শাস্তি পায়নি। ২০১০-এর ৮ জুলাই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগে রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার বিনোদন কেন্দ্র ভিন্ন জগৎ থেকে ১৬৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এই মামলাও প্রমাণ করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। দশটি মামলার চার্জশীট পর্যালোচনা করে এজাহারে বর্ণিত অভিযোগের বাইরে বিস্তারিত কোন ব্যাখ্যা নেই। ১০টি মামলার ৪০ জন আসামীর মধ্যে ৩৪ জন অব্যাহতি পেয়েছেন। একটি মামলার দুজন আসামীই খালাস পেয়েছেন। ৭ টি মামলা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে পুলিশ। রাত আড়াইটায় গ্রেফতার করে পুলিশ যখন মামলা থেকে আসামীদের অব্যাহতি দিয়ে বলে, তারা নির্দোষ কর্মস্থলে যাচ্ছিল। তখন বুঝতে হবে ‘ডাল মে কুছ কালা হ্যায়’। ভূত সর্ষের মধ্যে বাসা বেঁধেছে। অতএব প্রশ্নপত্র ফাঁসে কোন সমস্যা নেই। শাস্তি-সাজা পাওয়ার ভয় নেই। এদেশের পুলিশ এই আইনের বিষয়টি বুঝে ওঠার আগেই জালিয়াতি চক্রের হোতারা উঠে-পড়ে লেগেছে অর্থ কামিয়ে নেয়ার উৎসবে।
প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। নতুন প্রজন্মের মেরুদন্ড ভেঙে দেয়ার নীলনক্সা করছে একটি গোষ্ঠী। তাদের কাছে জিন্ম হয়ে পড়ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে শুধু মেধারই অবমূল্যায়ন হয় না, লেখাপড়ায় মনোনিবেশ হারিয়ে শিক্ষার্থীরা শিশুকাল থেকেই নীতিবর্জিত মানসিকতা লালন করতে শুরু করে। যা জাতির জন্য আত্মঘাতি। প্রশ্ন ফাঁস এখন জাতীয় সমস্যায় রূপ নিয়েছে।
গত বছর ২৬ নভেম্বর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ বলেছিলেন, ‘প্রয়োজনে পরীক্ষার দিন মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেব, প্রয়োজনে ফেস বুক বন্ধ করে দেব। প্রশ্ন ফাঁস করে কেউ পার পাবে না, কেউ এখানে হাত দিবেন না, দিলে হাত পুড়ে যাবে, হাত ভেঙ্গে দেব’। শিক্ষামন্ত্রীর হুমকীতে যে কাজ হয়নি তা তো বোঝাই যাচ্ছে। অব্যাহত আছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা। মন্ত্রীর উক্তির মধ্যেই প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অসাহায়ত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মোবাইল, ফেসবুক না, বরং যারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত এবং চিহ্নিত তাদের শাস্তি দিতে হবে।
গত ৫ আগস্ট প্রকাশিত ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১২ থেকে ২০১৫-এর আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় মোট ৬৩ টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গবেষণায় প্রশ্ন ফাঁস এবং ফাঁসকৃত প্রশ্নপত্র ছড়ানোর এবং বাজারজাতকরণে সম্ভাব্য অংশীজনের মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িত এক ধরণের সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে-যারা প্রশ্নপত্র ফাঁস করে অর্থ-বিত্তবান হয়েছে। এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে রয়েছে শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, কোচিং সেন্টারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের একাংশের নেতা-কর্মী। যদিও শিক্ষামন্ত্রী টি আই বি’র এই প্রতিবেদনকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তবে শিক্ষামন্ত্রী সংসদে বক্তৃতার সময় বলেছেন, ‘পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস, এই সরকারের জন্য জীবন-মরণ সমস্যা’।
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস-সামাজিক অবক্ষয়েরই একটি অংশ। অবাক ব্যাপার আগের দিনে পিতা-মাতা ও শিক্ষক সন্তানকে নীতি-নৈতিকতার শিক্ষা দিতেন। এখনকার সময়ে পিতা, পুত্রের জন্য প্রশ্ন ক্রয় করছেন। শিক্ষক ছাত্রকে নকল ও প্রশ্নপত্র সরবরাহ করছে!
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে প্রধান শিক্ষককে চিঠি লিখে অনুরোধ করেছিলেন, ‘আমার সন্তানকে শেখাবেন, বিদ্যালয়ে নকল করে পাশ করার চেয়ে অকৃতকার্য হওয়া অনেক বেশি সম্মানের। তাকে আরও শেখাবেন, পাঁচটি ডলার কুঁড়িয়ে পাওয়ার চেয়ে একটি উপার্জিত ডলার অধিক মূল্যবান।’
আমার পিতা প্রয়াত ডা.এম ওসমান গণি ছিলেন এডওয়ার্ড কলেজের ছাত্র। তার কাছেই শুনেছি ১৯৪২ সালে এডওয়ার্ড কলেজের প্রিন্সিপ্যাল ছিলেন আর বোস (রায় রাধিকানাথ বসু বাহাদুর)। একই সাথে তিনি পাবনা পৌর সভার চেয়ারম্যানও ছিলেন (সরকার মনোনীত)। আর বোস-এর ছেলে পরীক্ষার সময় নকল করছিলেন, পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় তিনি ছেলের নকল ধরেন হাতে-নাতে এবং তাকে বহিস্কার করেন। এর পর প্রিন্সিপ্যাল আর বোসের স্ত্রী স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বাবার বাড়ি কলকাতায় চলে যান। অসাধারণ ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন পিন্সিপ্যাল আর বোস স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে আপোষ করেন নি। আপোষ করেন নি তার নীতির সঙ্গে। মৃত্যু পর্যন্ত তিনি পাবনা শহরে একাকী ম্যাচে থেকে নিঃসঙ্গ জীবন অতিবাহিত করেন।
অথচ এখন আমাদের শিক্ষকদের মধ্যে কেউ কেউ ছাত্রদের জন্য নকল সরবরাহ করেন। প্রশ্নপত্র বিক্রির মতো অপরাধের সঙ্গেও তাদের কেউ কেউ জড়িত! সরকারি কর্মকর্তাদেরও অবনতি হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙ্গুল। তাদের অনেকেই নাকি প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো জঘন্য ঘটনার সঙ্গে জড়িত। দেশ বা রাষ্ট্রের পবিত্র আমানত তাদের হাতে। অথচ তারা আমানতের খেয়ানত করছেন!
প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘৃণ্য অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এর জন্য দক্ষ এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। মাত্র ক’দিন আগেই সাভারস্থ জনপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে একজন মন্ত্রী তার বক্তৃতায় বলেছেন, ‘প্রশাসনে মেধাবী অফিসার হ্রাস পাচ্ছে’। কথাটি একটি জাতির জন্য হতাশার। ফাঁস হওয়া প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে যারা চাকরি পাচ্ছেন বা ভর্তি হচ্ছেন তাদের আর যাই হোক মেধাবী বলা যাবে না।
পরবর্তী প্রজন্মকে বাঁচাতে এবং দেশ ও জনতার স্বার্থেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো জঘন্য ঘটনা রোধ করতে হবে। অন্যথায় আমাদের ভবিষ্যৎ হবে অন্ধকারাচ্ছন্ন। মনে রাখতে হবে, প্রশ্নপত্র ফাঁস সরকারের জন্য তো বটেই জাতির জন্য জীবন-মরণ সমস্যা! অতএব সাধু সাবধান!

হাবিবুর রহমান স্বপন (সাংবাদিক, কলাম লেখক) মোবা : ০১৭১০৮৬৪৭৩৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

*