সংস্কৃতিবান ব্যক্তিরাই প্রকৃত ধার্মিক: মোশাররফ হোসেন মুসা

একজন ধার্মিক ব্যক্তির চিন্তার সীমাবদ্ধতা আর একজন সংস্কৃতিবান ব্যক্তির চিন্তার বিশালতা বোঝার জন্য মোতাহের হোসেন চৌধুরীর সেই অমর উক্তিটাই যথেষ্ট। তিনি ‘সংস্কৃতি কথা’ শীর্ষক এক প্রবন্ধের শুরুতে বলেছেন, “ধর্ম সাধারণ লোকের কালচার, আর কালচার শিক্ষিত-মার্জিত লোকের ধর্ম”। এই কথাটির মর্মার্থ জানতে আমরা একদিন পাক্শির প্রবীণ শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মুহম্মদ হবীবুল্লাহর বাসায় হাজির হই। তিনি এ প্রসঙ্গে তাঁর জীবনে দেখা একটি ঘটনা বলেন (এখানে উল্লেখ্য, মুহম্মদ হবীবুল্লাহ চট্টগ্রাম কলেজে পড়ার সময় মোতাহের হোসেন চৌধুরীর সরাসরি ছাত্র ছিলেন। তিনি বর্তমানে বার্ধক্যজনিত রোগে ঢাকায় একটি কিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন)। ঘটনাটি হলো, তাঁর পাড়ায় একজন দানশীল ও অত্যন্ত হৃদয়বান হাজী বাস করতেন। তিনি ধর্মভীরু হলেও আচার-আচরণে ছিলেন উদারমনা। উত্তম ব্যবহার ও সেবামূলক কর্মকাÐের কারণে তিনি সর্বমহলে প্রশংসিত ছিলেন। তো একদিন জনৈক সাইকেল আরোহীর সাইকেলের নীচে চাপা পড়ে ৫-৬ বছরের একটি পরিচয়হীন শিশু মারাতœক আহত হয়। হাজী সাহেব শিশুটিকে তৎক্ষণাত হাসপাতালে নিয়ে যান এবং সারাদিন সেবা-শুশ্রুষা করে শিশুটিকে সুস্থ করে তোলেন। বিকেল বেলা সন্ধান পাওয়া যায় শিশুটি হরিজন পল্লীর জনৈক মেথরের ছেলে। শিশুটির পিতা-মাতা কাঁদতে কাঁদতে হাসপাতালে উপস্থিত হলে হাজী সাহেব পরম যতেœ শিশুটিকে তাদের কোলে তুলে দেন। কিন্তু অস্ফুট স্বরে বলতে থাকেন ‘সারাদিন এত পরিশ্রম করলাম একটি মেথরের ছেলের জন্য!’ তিনি যদি সংস্কৃতিবান ব্যক্তি হতেন তাহলে তার কাছে শিশুটির ধর্ম কিংবা বর্ণ পরিচয় মূখ্য হতো না। কারণ একজন সংস্কৃতিবান ব্যক্তিকে পৃথিবীর সকল ধর্মের মানবিক বিষয়গুলো ধারণ করতে হয়। সেসঙ্গে তাকে সাহিত্য,বিজ্ঞান সহ মানুষের জন্য কল্যাণকর যাবতীয় উত্তম আবিস্কারগুলো সম্পর্কেও জানতে হয়। কিন্তু একজন ধার্মিক ব্যক্তিকে ওসব গুণের অধিকারী না হলেও চলে। ফলে তিনি মুখে যতই উদারতার কথা বলুক না কেন, সবশেষে তিনি স্বীয় ধর্মীয় বিশ্বাসের বাইরে যেতে পারেন না।

লেখক: পরিচালক, প্রাইমারি কালচার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (পিসিডিসি)।
সেল: ০১৭১২-৬৩৮৬৮২।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

*