ঈশ্বরদী-পাকশীতে রেলওয়ের জমি দখলে ২০০০ দখলদার

0
649

অনলাইন ডেস্ক, ঈশ্বরদী ডটকম// রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল জোনের পাকশী বিভাগে ২ হাজার ৪২৩ দশমিক ৬৫ একর জমি বেদখল হয়ে গেছে। সেখানে গড়ে উঠেছে বসতি। চাষাবাদও চলছে। দখলের দিক দিয়ে এগিয়ে আছে ঈশ্বরদী ও পাকশী।

রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, বিভিন্ন সময় নোটিশ দিয়েও দখলদারদের উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না। গত ১১ অক্টোবর ঈশ্বরদীতে ‘আইনশৃঙ্খলা-বিষয়ক বিশেষ সভা’ অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য রেলের এসব অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দখলদারদের তালিকা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। নতুন তালিকায় দুই হাজার দখলদারের নাম পাওয়া গেছে।

বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদ বলেন, অনেক দখলদার রয়েছে যারা রেলের জায়গায় দখল করে অপরাধীদের আস্তানা গড়ে তুলেছে। এ সব দখলদার সংঘবদ্ধ।

বিভাগীয় রেলওয়ে ভূ-সম্পত্তি দপ্তর সূত্রে জানা যায়, রেলের জমির সবচেয়ে বেশি দখল হচ্ছে পাকশী রেল সদর ও ঈশ্বরদী স্টেশন এলাকায়। পাকশীর ঝাউতলা, মেরিনপাড়া ও হঠাত্পাড়া এলাকায় ইতিমধ্যে এক হাজার ঘরবাড়ি অবৈধভাবে দখল নিয়ে গড়ে উঠেছে। দখলদাররা রেলের এসব জায়গা দখল নিয়ে ঘরবাড়ি ছাড়াও সেখানে গড়ে তুলেছে তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কার্যালয় ও ক্ষুদ্র কারখানা। পাকশীতে বিএনপির নেতা আকরাম আলীর বিরুদ্ধে রেলের ১১ দশমিক ৬ একর জমি দখল করে ‘পাকশী রিসোর্ট’ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা বিচারাধীন। রিসোর্টের ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই জমির মালিক আকরাম আলী খান। এই জমিটি বহু আগে পাবনা কালেক্টরেট কার্যালয় থেকে নিলামের মাধ্যমে কেনা হয়।

ব্যবসায়ী সাহাবুদ্দিন মল্লিক রেলের জায়গায় তাঁর মায়ের নামে ‘সায়রুন নেসা মল্লিক আইডিয়াল কিন্ডারগার্টেন’ এবং ‘সায়রুন নেসা মল্লিক আইডিয়াল হাইস্কুল’ স্থাপন করেন ২০১৪ সালে। রেলের উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হলেও তোয়াক্কা না করে দখল অব্যাহত রেখেছেন। প্রধান শিক্ষক উদয়নাথ লাহিড়ী জানান, দখল নেওয়া রেলের জায়গায় এই স্কুলটি ভবিষ্যতে এখানে থাকবে না।

পাকশী বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদ জানান, পাকশী ও ঈশ্বরদীর দখল উচ্ছেদের জন্য প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু অভিযান শুরু করলেই তাদের নানা বাধাবিপত্তির মধ্যে পড়তে হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

*