ঈশ্বরদীতে সিসি ক্যামেরা ও মেটাল ডিটেক্টর স্থাপনের সিদ্ধান্ত

0
528

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঈশ্বরদী ডটকম//ঈশ্বরদীতে বিদেশি নাগরিকদের কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখানকার অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে (কেপিআইভুক্ত) পাঁচ দিনের মধ্যে মেটাল ডিটেক্টর ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গতকাল রোববার ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদে ‘আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক বিশেষ সভায়’ এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে আন্তদেশীয় যাত্রীবাহী মৈত্রী এক্সপেস ট্রেনে বিদেশি যাত্রীদের জন্য কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

ঈশ্বরদীর ইউএনও শাকিল মাহমুদের সভাপতিত্বে ওই বিশেষ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পাবনার জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দীন। এ সময় পাবনার পুলিশ সুপার (এসপি) আলমগীর কবির, র‌্যাব-১২ পাবনা ক্যাম্পের উপপরিচালক সরোওয়ারদি মোহাম্মাদ, পাকশী রেলের বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (লোকো) কে এম কামরুজ্জামান, ঈশ্বরদী উপজেলা চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান মাহ্‌জেবীন শিরিন, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের অফিস ইনচার্জ রুহুল আমিন, ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিমান কুমার দাশ, পাকশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তপন সরদার প্রমুখ বক্তব্য দেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান বলেন, পাকশীতে রেলের জায়গা দখল করে হঠাৎপাড়া নামে ৫০০ মানুষের অবৈধ বসতি গড়ে উঠেছে। এলাকাটি অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। অথচ এর কিছু দূরেই রয়েছে বিদেশিদের আবাসস্থল। এটি উচ্ছেদ করতে হবে।

আলোচনা শেষে জেলা প্রশাসক বলেন, বিদেশিদের নিরাপত্তা বৃদ্ধিসহ ঈশ্বরদীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পাঁচ দিনের মধ্যে মেটাল ডিটেক্টর ও সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবগত করা হচ্ছে। রাত ১০টার পর থেকে ঈশ্বরদী উপজেলার হাট-বাজার, দোকান, বিভিন্ন চায়ের দোকান ও মোড়ে মোড়ে টেলিভিশন ও সিডি চালানো বন্ধ থাকবে।

সভায় যাজক লুক সরকার হত্যাচেষ্টা মামলা ও পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই সুজাউল ইসলাম খুনের মামলার অগ্রগতির বিষয়েও আলোচনা হয়।

গির্জায় গেলেন লুক সরকার
ছয় দিন পর পুলিশের নিরাপত্তায় গতকাল রোববার সকালে নিজের কর্মস্থল গির্জায় গেলেন যাজক লুক সরকার। গলা কেটে হত্যাচেষ্টার শিকার হওয়ার পর থেকে অসুস্থতা ও শঙ্কার কারণে এত দিন তিনি গির্জায় যাননি।

লুক সরকার বলেন, সকাল আটটার দিকে একটি গাড়িতে ঈশ্বরদী থানার কয়েকজন পুলিশ তাঁর বাড়িতে যায়। পুলিশ তাঁকে এবং স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ পরিবারের আটজনকে গাড়িতে করে গির্জায় নিয়ে যায়। সেখানে তিনি এক ঘণ্টা প্রার্থনা করেন। প্রার্থনা শেষে পুলিশ তাঁদের বাসায় পৌঁছে দেয়।

লুক সরকারের হত্যাচেষ্টায় জড়িত ব্যক্তিদের এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় ওবায়দুল ইসলাম নামের এক সন্দেহভাজন যুবককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হলেও রহস্যের জট খোলেনি। এদিকে গতকাল পর্যন্ত হামলাকারীদের ফেলে যাওয়া মোটরসাইকেলটি পরীক্ষা করার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়নি।

জানতে চাইলে ঈশ্বরদী থানার ওসি বিমান কুমার দাশ বলেন, ‘আমরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি। সেই অনুযায়ী তদন্ত চলছে। আর মোটরসাইকেলটি ঢাকায় পাঠানোর ব্যাপারে দু-এক দিনের মধ্যে আদালতে আবেদন করা হবে। আর আদালতের অনুমতি নিয়ে গ্রেপ্তার ওবায়দুলকেও রিমান্ডে নেওয়া হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

*