কামাল আহমেদ-এর ঈশ্বরদীর উন্নয়ন ভাবনা
ঈশ্বরদী মোটরস্ট্যান্ডের উন্নয়ন/মিনি পার্কে রূপান্তর

কামাল আহমেদ// ঈশ্বরদী মোটরস্ট্যান্ড। এমন এক স্থান, যা ভারতীয় উপমহাদেশ, সাবেক পাকিস্তান ও বর্তমান বাংলাদেশ আমলের অনেক ঘটনা-রটনা, উত্থান-পতন ও আন্দোলন-সংগ্রামের নীরব সাক্ষী।

প্রায় শতবর্ষ আগে (সম্ভবত ১৯১৭ সালে) রেল কর্তৃপক্ষ মোটরস্ট্যান্ডটি স্থাপন করেছিল জংসন স্টেশন চালু হওয়ার পর। উদ্দেশ্য ছিল, এখান থেকে পাবনা জেলা শহর পর্যন্ত চলাচলকারী মোটরগাড়িতে যেন রেলযাত্রীরা সহজেই পাবনা- ঈশ্বরদী যাতায়াত করতে পারেন। এ জন্য তারা রেলের আউটপোস্ট হিসেবে পাবনা শহরেও স্থাপন করেছিল আরও একটি মোটরস্ট্যান্ড। আর রেলের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ‘বিশ্বাস মোটর কোম্পানি’র বাস সার্ভিস চালু হয়েছিল ঈশ্বরদী- পাবনা রুটে।
মূলত, মোটরগাড়ি পার্কিং-এর স্থান হিসেবে এটি মোটরস্ট্যান্ড নামে খ্যাত হয়ে উঠলেও, এটি স্থাপিত হওয়ার পর সাবেক ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশবিরোধী এবং ১৯৪৭ হতে ১৯৭১ পর্যন্ত পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক এবং ছাত্র- শ্রমিক- কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন- সংগ্রামে সভা- সমাবেশ, মিছিল- মিটিং এবং এমন কি সাংস্কৃতিক আন্দোলন, তথা অনুষ্ঠানাদি আয়োজনে এই মোটরস্ট্যান্ডটি ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এখনো আগের ধারাবাহিকতায় একই ভাবে তা ব্যবহৃত হচ্ছে।

তবে, স্থানটির চাকচিক্য আর শান-শওকত আগের মতো নেই। পাকিস্তান আমল পর্যন্ত স্থানটি মূলত মোটরগাড়ি দাঁড়ানো ও পার্কিং-এর কাজেই ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। ফলে এর তিন দিক (পূর্ব দিকে বুকিং অফিস ছিল, এখনও আছে), অর্থাৎ দক্ষিণ, পশ্চিম ও উত্তর দিক ছিল ফাকা, উন্মুক্ত। কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এর জৌলুষ হারাতে হারাতে এখন প্রায় মৃতপ্রায় অবস্থা! বর্তমানে উত্তর, দক্ষিণ, পশ্চিম-সব দিকেই স্থায়ী-অস্থায়ী দোকানঘর তুলে এর স্বাভাবিক পরিসরকেই শুধু দিন দিন ছোট করে ফেলা হয়নি, এর গৌরব ওইতিহ্যকেও হরণ করা হয়েছে এবং হচ্ছে।

বর্তমানে যে সামান্য ফাকা জায়গা আছে, তা সিএনজি স্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্যদিকে, এর পশ্চিমপাশে পৌরসভার পক্ষ থেকে এখানে সভাসমাবেশ, অনুষ্ঠানাদি আয়োজনের সুবিধার্থে একটি মুক্তমঞ্চ তৈরি করা হলেও, তার অবস্থা এখন শোচনীয়। এর আশপাশের দোকানঘর, টং ইত্যাদির আধিক্যের কারণে ‘ মাহবুব আহমেদ খান’ নামের মুক্ত মঞ্চটির অস্তিত্ব ঝট করে চোখে পড়ে না, কষ্ট করে খুঁজে নিতে হয়!

অথচ, ঈশ্বরদী পৌরসভা এবং রেলবিভাগ ইচ্ছা করলে যৌথ সহায়তা ও সমন্বিত পরিকল্পনার ভিত্তিতে এই স্থানটিকে সহজেই একটি দৃষ্টিনন্দন মনোরম স্থান ও মিনি পার্ক হিসেবে গড়ে তুলে ঈশ্বরদীবাসীকে বিনোদনের এক চমতকার ও আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে উপহার দিতে পারে।

আর তা করতে হলে প্রথমে এখান থেকে কোন সুবিধাজনক স্থানে বর্তমান সিএনজি স্ট্যান্ড স্থানান্তর ও এর তিন পাশের দোকানঘর, টং ইত্যাদি তুলে দিয়ে স্থানটিকে ফাকা করার পর পরিকল্পিতভাবে নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে হবে।
১. মোটরস্ট্যান্ডের দক্ষিণ, পশ্চিম ও উত্তর পাশে ছায়াকর কিছু গাছ রোপন,
২. গাছকে কেন্দ্র করে অথবা উভয় গাছের মাঝখানে বসার স্থান নির্মাণ,
৩. সুবিধাজনক স্থানে একটি ফোয়ারা নির্মাণ,
৪. উত্তর পাশে রেলের পদচারী সেতুর নিচে আধুনিকমানের গণশৌচাগার নির্মাণ,
৫. মাহবুব আহমেদ খান মুক্ত মঞ্চের মান বৃদ্ধিসহ আধুনিকীকরণ,
৬.পার্কটি গড়ে তোলার পর তার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পৌরসভার কাছে হস্তান্তর, ইত্যাদি।

লেখক: কামাল আহমেদ
মুক্তিযোদ্ধা, কলামিস্ট, গীতিকার এবং সাংবাদিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

*