কামাল আহমেদ-এর ঈশ্বরদীর উন্নয়ন ভাবনা
ঈশ্বরদীতে আধুনিক মানের হীমাগার স্থাপন প্রয়োজন

0
263

কামাল আহমেদ// সাম্প্রতিককালে, বিশেষ করে আশির দশক থেকে ঈশ্বরদীতে কৃষি ক্ষেত্রে এক ধরনের বিপ্লব সাধিত হয়েছে বলা চলে। সাধারণভাবে এখানকার বেলে দোআশ মাটিতে প্রায় সব ধরনের ফসলই জন্মে এবং ফলনও খুব ভালো।

এই সময়কালে, ঈশ্বরদীর মূল কৃষি ফসল ধান, আখ, গম ইত্যাদির পাশাপাশি আলু, শিম, পিঁয়াজ, মিষ্টি আলু, কপি, পেঁপে, ঝিঙে, শসা প্রভৃতি সব্জিজাতীয় ফসলের চাষ ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, ফলের মধ্যে লিচু, আম, কাঁঠাল, পেঁপে, বেল, তাল, বড়ই ইত্যাদির চাষও বেড়েছে ব্যাপকভাবেই। এখানকার সবজি, ফল ও অন্যান্য কৃষিপণ্য স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দিন দিন জোগান বৃদ্ধির মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। এ কারণে ঈশ্বরদীর কৃষি ও কৃষক নানাক্ষেত্রেই এর মধ্যে জাতীয় স্বীকৃতি লাভ করেছে।

এসবের প্রেক্ষাপটে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ঈশ্বরদী ইক্ষু গবেষণা ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে ঈশ্বরদীর সমস্যা ও সম্ভাবনা বিষয়ক আলোচনায় জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক শাজাহান আলী, যিনি পেঁপে শাজাহান নামে সমধিক পরিচিত, তিনি এখানে কৃষি পণ্য সংরক্ষণে হীমাগারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

লক্ষনীয় যে, ঈশ্বরদীতে বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্যের উতপাদনের পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক ব্যবসা-বাণিজ্য, তথা এগ্রোবিজনেসের বিকাশ ও প্রসার ঘটেছে এবং এসবের প্রসার অব্যাহত আছে। অথচ সাধারণ দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যবসায়িক সম্ভাবনা এবং গ্যাস ও বিদ্যুতের সুযোগ থাকলেও, এখনো কেন এখানে আধুনিক মানের কোন হীমাগার স্থাপনে বেসরকারি বা ব্যক্তি উদ্যোগে কেউ এগিয়ে এলেন না, তা আমার সাধারণ মাথায় ঢোকে না!

আমি সাধারণভাবে বুঝি, ব্যবসায়ী/শিল্পপতিরা কড়ায়গণ্ডায় লাভ-লোকসানের হিসাব কষেই বিনিয়োগ করে থাকেন। তবে কি, ঈশ্বরদীতে হীমাগার স্থাপনের বিষয়টি তাদের কাছে অলাভজনক বলে বিবেচিত হচ্ছে? আমি ঠিক জানিনা বা বুঝিও না এ হিসাবটি। কেউ কি এ বিষয়ে দয়া করে আলোকপাত করবেন?

লেখক: কামাল আহমেদ
মুক্তিযোদ্ধা, কলামিস্ট, গীতিকার এবং সাংবাদিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

*