কামাল আহমেদ-এর ঈশ্বরদীর উন্নয়ন ভাবনা
ঈশ্বরদীতে রেলের অব্যবহৃত জমি দখলমুক্ত করে জনকল্যাণে ব্যবহারের ব্যবস্থা করা

কামাল আহমেদ// রেলশহর ঈশ্বরদী ও পাকশীতে রেলবিভাগের বহু জমিজমা ও স্থাপনা রয়েছে। আজ থেকে শতবর্ষ আগে ১৯০৯ সালে যখন পাকশীতে পদ্মা নদীর ওপর হার্ডিঞ্জ সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হয়, তখন নির্মাণাধীন সেতুর পূর্বপ্রান্ত হতে আজকের ঈশ্বরদী পর্যন্ত নতুন ব্রডগেজ লাইন স্থাপন, পাকশীতে রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবনাদি, অফিস, হাসপাতাল, রেলস্টেশন এবং ঈশ্বরদীতেও ওইসব স্থাপনার পাশাপাশি লোকোশেড, রানিংরুমসহ অন্যান্য বহু স্থাপনা ও ভবনাদি নির্মাণের জন্য প্রচুর জমি হুকুমদখল করা হয়।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগেই পাকশী ও ঈশ্বরদীতে ধর্মীয় স্থাপনাসহ নানা কায়দায় রেলের অব্যবহৃত জমি বেদখল করার অশুভ চেষ্টা শুরু হয়। তবে এক ধরনের অশুভ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে স্বাধীনতার পর ব্যাপক ভাবে রেলের জমি ও সম্পত্তি জবরদখলের হিড়িক পড়ে যায়।

সাম্প্রতিক এক তথ্যে জানা যায়, বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ২০০ একর (রেলবিভাগ সঠিক তথ্য দিতে পারবে, যদি তাদের কাছে তা থেকে থাকে!) জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা বেদখল হয়ে গেছে। এসব স্থাপনার মধ্যে প্রধান হচ্ছে, রেলের কোয়ার্টার সমূহ। পাশাপাশি রয়েছে রেলের অব্যবহৃত অন্যান্য স্থাপনা ও ভবনাদি।

স্বাধীনতার পরপরই প্রধানত রেলের লোকো এলাকার কোয়ার্টারগুলোর অধিকাংশই দখল করে নেয় পাকিস্তানে প্রত্যাবাসনপ্রত্যাশী অবাঙালিদের এক বড় অংশ। পরে ধীরে ধীরে পশ্চিম টেংরিসহ অন্যান্য স্থানের অনেক কোয়ার্টার ও স্থাপনা এক শ্রণির সুযোগসন্ধানী বাংগালিরাও দখল করতে থাকে। পাশাপাশি চলতে থাকে রেলগেট থেকে শুরু করে রেলওয়ে নাজিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত ঈশ্বরদীর প্রধান সড়কের পশ্চিমপাশের রেলের জায়গাজমির দখল। পাকশীতে একইভাবে দখল, জবরদখলের পাশাপাশি খানকাহ শরিফ, পাকশী রিসোর্ট প্রভৃতি নামে রেলের অনেক মূল্যবান জমি শুধু বেদখলই হয়নি, অনেক ক্ষেত্রে জাল দলিল ও গোপন ভুয়া রেকর্ডের মাধ্যমে অনেক জমি স্থায়ীভাবে গ্রাস করার প্রচেষ্টা সফল হওয়ার আলামতও লক্ষ করা যাচ্ছে।
শুধু দখল, জবরদখলই নয়, রেলের যেসব কোয়ার্টারে রেলের কর্মকর্তা-ককর্মচারীরা থাকেন না, সেসব কোয়ার্টারের অনেকগুলো হয়ে উঠেছে মাদক ব্যবসার নিরাপদ স্থান ছাড়াও অন্যান্য সামাজিক অপরাধ সংঘটনের কেন্দ্র!

রেলের সম্পত্তি দিন দিন নানাভাবে দখল হওয়া সত্ত্বেও, এসব সম্পত্তি উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন প্রচেষ্টা নেই!! বরং এসব সম্পত্তি দখল, জবরদখল, লিজ ও হাতবদলের বিষয়গুলো হয়ে উঠেছে রেলের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা- কর্মচারীর দুর্নীতি ও গোপনপথে আয়-ইনকামের কার্যকর হাতিয়ার। আর এভাবেই রেলশহর ঈশ্বরদী ও পাকশীতে রেলই ভূমিহীন হয়ে পড়ছে!!!

একটি ছোট উদাহরণ। নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঈশ্বরদী লোকোশেডের পূবপাশের দেয়াল ঘেঁষে সম্পূর্ণ রেলের জায়গায় গত বছর ব্যক্তিবিশেষের নামে একটি জুনিয়র হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। শর্তসাপেক্ষে কোন ব্যক্তি যদি প্রয়োজনীয় জমি, অর্থ বা সম্পত্তি দান করে, তাহলে ব্যক্তিবিশেষের নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করা যায়। কিন্তু এক্ষেত্রে রেলের জায়গায় ব্যক্তিবিশেষের নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে রেলের সহায়তায়! ভাবতেও বিস্মিত হতে হয়!! অথচ, নিকটবর্তী দূরত্বে রয়েছে রেলের পক্ষ থেকে ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত রেলওয়ে নাজিমুদ্দিন হাইস্কুল, যে স্কুলের শিক্ষার মান ও ছাত্রসংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে রেলের নানাবিধ অব্যবস্থাপনার কারণেই। সত্যিই বড় বিচিত্র এ দেশ সেলুকাস!!!

পাকশী রেল অফিসের এসব কাণ্ডকারখানা দেখে বলতে ইচ্ছা করে-
এমন রেল অফিস কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি
সে তো অকাতরে বিলিয়ে দেয় নিজ সম্পদ-ভূমি!
ঈশ্বরদী-পাকশীর রেলের এসব মূল্যবান সম্পদ, কোয়ার্টার, জমি ইত্যাদি দখলমুক্ত করে তা পরিকল্পিতভাবে জনকল্যাণে কাজে লাগানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার কি কেউ নেই??

লেখক: কামাল আহমেদ
মুক্তিযোদ্ধা, কলামিস্ট, গীতিকার এবং সাংবাদিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

*