দুর্গোৎসব শুরু 

মা দুর্গাদেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে সোমবার থেকে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। বোধনের মাধ্যমে দক্ষিণায়নের নিদ্রিত দেবীর নিদ্রা ভাঙার জন্য বন্দনা পূজা করা হয়। মূলত এই বোধনের মধ্য দিয়েই শুরু হয় শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি। আজ মঙ্গলবার দুর্গাষষ্ঠীর মাধ্যমে মহাষষ্ঠীতে পূজামন্ডপগুলো উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এর পর বুধবার মহাসপ্তমী, বৃহস্পতিবার মাহ অস্টমী, একইদিনে সন্ধীপূজা, শুক্রবার মহানবমী এবং আগামী শনিবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারে শারদীয় দুর্গোৎসব।

এবছর ঈশ্বরদীতে ২৫ টি পূজামন্ডপ ও মন্দিরে দুর্গোৎসবের ব্যাপক প্রস্তুতিও গ্রহণ করা হয়েছে। আপাত:দৃষ্টিতে দুর্গোৎসব নিয়ে তেমন উৎকণ্ঠা না থাকলেও পুলিশ প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থা সূত্র জানিয়েছেন ঈশ্বরদীর ২৫ টি পূজা মন্ডপের মধ্যে প্রায় সবগুলো মন্দির ও পূজামন্ডপ এলাকাকে ‘গুরুত্বপূর্ন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দীন জানান, শারদীয় দুর্গাপূজার সময় ঈশ্বরদীর পুলিশ প্রশাসন অধিক নজরদারি রাখবে পূজামন্ডপগুলোতে।

গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ জানায়, ঈশ্বরদীর মৌবাড়িয়া শ্রী শ্রী দূর্গা মন্দির, ঈশ্বরদী বারোয়াড়ি ঠাকুরবাড়ি মন্দির, কর্মকার পাড়া মাতৃমন্দির, পৌর সুপার মার্কেট সংলগ্ন শ্রী শ্রী শিবশক্তি যোগমায়া পূণ্যপীঠ মন্দির, রেল গেটের মাতৃমন্দির, দরিনারিচার হরিজন কলোনীতে শ্রী শ্রী শিব দূর্গা মন্দির, আরামবাড়িয়া পূর্বপাড়ার শ্রী শ্রী শিবমন্দির, আরামবাড়িয়া বাজারে কুন্ডু সমিতি বারোয়াড়ি মন্দির, আরামবাড়িয়া হাই স্কুল পাড়ায় মধ্যপাড়া কুন্ডু সমিতি শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির, আরামবাড়িয়া পশ্চিম কোমরপুর শ্রী শ্রী গঙ্গা মন্দির, পাক্শী বাজারের সার্বজনিন বারোয়াড়ি শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির, পাকুড়িয়া বারোয়াড়ি শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির, কৈকুন্ডা দাসপাড়া বারোয়াড়ি মাতৃমন্দির, সাহাপুরের রহিমপুর গড়গড়ি বটতলায় মাতৃকালীন মন্দির, দাশুড়িয়া বাজার বারোয়াড়ি দেবক্রিয়া মন্দির, দাশুড়িয়া কলেজপাড়া বারোয়াড়ি মাতৃমন্দির, মুলাডুলির ঘোষপাড়া সার্বজনিন মন্দির, মূলাডুলির পালপাড়া বারোয়াড়ি শ্রী শ্রী দূর্গা মন্দির, মুলাডুলির ফরিদপুর বারোয়াড়ি মন্দিরকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বলে চিহ্নিত করেছে পুলিশ প্রশাসন।

ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দীন জানান এসব মন্দিরকে অধিক গুরুত্বপূর্র্ন এলাকা হিসেবে প্রাথমিকভাবে মনে করা হলেও আরামবাড়িয়া রায়পাড়া বারোয়াড়ি শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির, সাঁড়া ঘাট পাড়া শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির, রূপপুরের বিবিসি বাজারে নবযুগ গোষ্ঠি বারোয়াড়ি মাতৃমন্দির, দিয়াড় সাহাপুরের বৃন্দাবন গোষ্ঠি মন্দির, মুলাডুলির সত্যপথ মন্দির ও জয়নগর কারিগরপাড়ার দাসপাড়া শ্রী শ্রী শিব দুর্গা মন্দিরকেও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে মন্দির ও পূজামন্ডপের তালিকা পাবনা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার সভাপতি সুনিল চক্রবর্তী জানান, নির্বিঘেœ শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন করতে পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকেও সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

*