ঈশ্বরদী স্টেশনের ছাউনিতে অসংখ্য ছিদ্র, যাত্রীদের ভোগান্তি

0
364

সেলিম সরদার// দেশের অন্যতম বড় রেলওয়ে জংসন স্টেশন ঈশ্বরদী। অনেক কম গুরুত্বপূর্ণ সম্পন্ন স্টেশন এলাকা আধুনিকায়নসহ নানা উন্নয়ন সাধিত হলেও গুরুত্বপূর্ন এই স্টেশনটি এখনো হয়নি আধুনিকায়ন, বরং নানা সমস্যায় জর্জরিত অবস্থায় এখনো রয়েছে অবহেলিত। সরেজমিন দেখা গেছে স্টেশনের বহু পুরোনো ছাউনিতে এখন অসংখ্য ছিদ্র। সামান্য বৃষ্টি হলেই স্টেশন পাটফর্মে দাঁড়ানো যায়না। মালামাল পানিতে ভিজে যায়। দুর-দুরান্তে যাওয়া আসা করা যাত্রীরা পড়েন নানা দুর্ভোগে। স্টেশনের এ দুরাবস্থার কথা জানিয়ে গতকাল রোববার পাটফর্মে অপেক্ষমান ৭-৮জন যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

গতকাল দুপুরে বৃষ্টির সময় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্টেশনের পাটফর্মের চারিদিকে পানি। যাত্রী ছাউনিতে অসংখ্য ছিদ্র। এসব ছিদ্র দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ছে অঝোরে। যাত্রী বিশ্রামাগার বন্ধ থাকায় যাত্রীরা বৃষ্টির পানি থেকে নিজেকে ও মালামাল সামলাতে ঠাসাঠাসি করে পাটফর্মের বিভিন্ন কোনায় অবস্থান নিয়েছেন। যাত্রীদের এ অসুবিধা দেখতে এ সময় রেলের কোনো কর্মকর্তাকেও দেখা যায়নি। এ অবস্থা দীর্ঘদিনের বলে ঈশ্বরদী স্টেশন থেকে অন্য গন্তব্যস্থলে যাওয়া কয়েকজন যাত্রী জানান।
তারা অভিযোগ করেন, শুধু বৃষ্টির পানি নয়, স্টেশনে পাটফর্মে রেললাইনে স্তুপ আকারে মল-ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকলেও এগুলো পরিষ্কার করা হয় না। কিছুদিন আগে পাটফর্ম লাইনের কোল ঘেঁষে নির্মাণ করা ড্রেন ময়লা-আবর্জনায় সয়লাব। নিয়মিত পরিস্কার করা হয়না এগুলো।

স্টেশনে অপেক্ষমান কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী সিরাজ উদ্দিন বলেন, এখন বিনাটিকিটে খুব কম যাত্রীই রেলভ্রমন করেন। যাত্রীরা এ বিষয়ে সচেতন হলেও রেলের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারি ঠিকমত দায়িত্ব না পালন করায় স্টেশনের এ বেহাল অবস্থা। তিনি বলেন, কোথাও স্বস্তিতে বসা যায় না। চারিদিকে দুর্গন্ধ আর অনাকাঙ্খিত মানুষের অবস্থান এ স্টেশনের চারিদিকে। রেল পুলিশ সদস্যদের ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেলেও তারা এসব ব্যাপারে কোনো গুরুত্ব¡ দেন না।

একই ট্রেনের যাত্রী কলেজ ছাত্রী মহুয়া আক্তার জানায়, ঈশ্বরদী দেশের অন্যতম বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে জংসন স্টেশন হলেও বহু পুরনো আমলের তৈরি টিনের ছাউনি খুবই দৃষ্টিকটু। অতিমাত্রায় পুরোনো হওয়ার কারণে অসংখ্য ছিদ্র দেখা দিয়েছে স্টেশন ছাউনিতে। যার কারণে বৃষ্টির পানি এসব ছিদ্র দিয়ে পাটফর্মে পড়ে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ায়। এ ব্যাপারে তিনি বিষ্ময় প্রকাশ করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশের এই অন্যতম রেল জংসন স্টেশনটি বৃটিশ আমলে তৈরি। এ স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন আন্ত:নগর-লোকাল-মেইল মিলিয়ে ৩০-৪০টি যাত্রী ও মালবাহী ট্রেন ঢাকাসহ উত্তর-দক্ষিনা লে চলাচল করে। ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনটিও এই ঈশ্বরদী স্টেণ দিয়েই চলাচল করে। যাত্রীবাহী এসব ট্রেনে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। ঈশ্বরদীবাসি ও যাত্রী সাধারণের স্টেশনটি রি-মডেলিং করার দাবি দীর্ঘদিনের। অন্যতম এ স্টেশনটি আধুনিকায়ন করার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও অজ্ঞাতকারণে করা হচ্ছে না।

যোগাযোগ করা হলে ছাউনিতে অসংখ্য ছিদ্রের কথা স্বীকার করে ঈশ্বরদী স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট (এসএস) আব্দুল করিম জানান, এ বিষয়ে সংশিষ্ট বিভাগের উধ্বর্তন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

প্রশ্ন করলে পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় ম্যানেজার (ডিআরএম) অসীম কুমার তালুকদার মুঠোফোনে বলেন, ঈশ্বরদী জংসন স্টেশন ছাউনির ছিদ্র দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে, যাত্রীদের অসুবিধার কথা বিবেচনায় এনে শীঘ্রই পাটফর্মে বৃষ্টির পানি পড়া বন্ধে ছাউনির ছিদ্র মেরামতের কাজ শুরু করা হবে। তবে আধুনিকায়ন সম্পর্কে তিনি কোন মন্তব্য করেননি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

*