মামলায় জর্জরিত ঈশ্বরদীর আওয়ামীলীগের রাজনীতি

0
369

সেলিম সরদার// ঈশ্বরদীতে ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ এমপি ও তার জামাতা পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টুর পারিবারিক দ্বন্দ্বে এখন মামলা-পাল্টা মামলার হিড়িক পড়েছে। জামাই-শ্বশুর দ্বন্দ্বে একের পর এক পাল্টাপাল্টি মামলায় এখন ঈশ্বরদীর আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের প্রায় শতাধিক নেতা-কর্মীরা এসব মামলার আসামী হয়ে গ্রেফতার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। কিছুদিন আগেও যেসব আওয়ামীলীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতারা ঈশ্বরদীতে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন, যাদের চলাফেরায় শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তো তারা সবাই এখন নিজ দলের লোকজনের দায়ের করা মামলায় আত্বগোপনে গেছেন। ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগের দলীয় অভ্যন্তরীণ ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব নিয়ে গত এক মাসে ৫টি মামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মী আসামি হয়ে গ্রেফতার আতংকে রয়েছেন। শতাধিক এসব আসামীর বাইরে ‘অজ্ঞাতনামা’ আসামির সংখ্যা রয়েছে আরো অন্তত অর্ধশত। রে আগেও আওয়ামীলীগের দুই গ্র“পে সংঘর্ষের ঘটনায় একাধিক মামলা রয়েছে।

ঈশ্বরদী থানা সূত্রে জানা গেছে সর্বশেষ গত ২ জুলাই রাতে ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টুকে প্রধান আসামি করে ১৮ জনের নামে পুকুরের মাছ লুটের অভিযোগে থানায় মামলা করেছেন ঈশ্বরদী পৌর যুবলীগের সভাপতি আলাউদ্দিন বিপ্লব। এই মামলার বাকি আসামিদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের বিশ্বাস, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক শরিফুল হাসান আরিফ, পৌর আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক সানোয়ার হোসেন, পৌর যুবলীগের সাবেক সভাপতি সানোয়ার হাসেন লাবু, পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম রকি, ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি রবি মোল্লাসহ ২০/২৫ জন।

পৌর যুবলীগের সভাপতি আলাউদ্দিন বিপ্লব তার এজাহারে উল্লেখ করেন, গত ১৪ জুন রাত আনুমানিক ৩টার সময় পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ মিন্টুসহ আসামিগণ আগ্নেয়াস্ত্রসহ ঈশ্বরদীর বিলপাড়া এলাকায় পুকুরের পাহারাদারের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকার মাছ ও মৎস্য খামারের ঘর থেকে ৩৩৫ বস্তা মাছের ফিড খাবার, খৈল, সারসহ যাবতীয় মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এসব মালামালের মূল্যও প্রায় ১৫ লাখ টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে গত ১ জুলাই ঈশ্বরদী শহরের মধ্যঅরনকোলা নিবাসী মকবুল হোসেন চুনু উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি জুবায়ের বিশ্বাস, কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আরাফাত রাসেলসহ ৭ জনের নামে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার লিখিত এজাহারে বাদী মকবুল হোসেন চুন্নু অভিযোগ করেন, গত ২৯ জুন দুপুরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আসামিরা বাড়িতে প্রবেশ করে এবং ভাঙচুর করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে। তারা জীবননাশেরও হুমকি দেয়। পরে ৬৬ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার ও নগদ সাড়ে ৪৮ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

এদিকে গত ১৮ মে বাড়িতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুুবায়ের বিশ্বাসের বাবা আতিয়ার রহমান বিশ্বাস বাদী হয়ে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শিরহান শরিফ তমালসহ ৩২ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। এই মামলায় ভূমিমন্ত্রীর ছেলে শিরহান শরীফ তমালসহ যুবলীগ-ছাত্রলীগের ১১ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ, ঈদের আগে তাদের জামিন হয়েছে। কলেজ রোডের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা আজমল হক বিশ্বাস তার বাড়িতে একই দিনে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় একটি মামলা করেন। এই মামলায়ও আসামি রয়েছেন ১৯ জন। ওই দিন স্টেশন রোডে দোকান ভাংচুরের ঘটনায় দায়ের করা আরেকটি মামলায় মোঃ রুয়েন কর্তৃক দায়েরকৃত মামলায় আসামি রয়েছেন ১৬ জন। আওয়ামীলীগের দুই গ্র“পের ব্যাপক সংঘর্ষে গত বছর (২০১৬)১৪ জুলাই আওয়ামীলীগ-ছাত্রলী-যুবলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ এবং ১৭ জুলাই উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে সন্ত্রাস-জঙ্গী বিরোধী মিছিলে আওয়ামীলীগের অপর গ্র“পের হামলা-ভাংচুরের ঘটনায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ঈশ্বরদী। এসব ঘটনায় উপজেলা ও পৌর আওয়ামীলীগ পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করে। এসব ঘটনায় আওয়ামীলীগ নেতা আকাল উদ্দিন সরদার বাদী হয়ে যুবলীগের সভাপতি সালাম খান, ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের বিশ্বাসসহ আওয়ামীলীগ যুবলীগ-ছাত্রলীগের ৩০ নেতাকর্মীকে আসামী করে ঈশ্বরদী থানায় মামলা দায়ের করেন। সর্বশেষ এসব পাল্টাপাল্টি মামলায় ঈশ্বরদীতে আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীরা রাজনীতির মাঠ ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন গ্রেফতার আতঙ্কে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

*