মন্ত্রী-মেয়রের দ্বন্দ্বে মামলা, হানাহানিতে ঈশ্বরদীর শান্তি নষ্ট

0
235

সেলিম সরদার// ঈশ্বরদীতে ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ও তার জামাতা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টুর পারস্পরিক দ্বন্দ্বে এখন মামলা-পাল্টা মামলার হিড়িক পড়েছে। জামাই-শ্বশুর দ্বন্দ্বে একের পর এক পাল্টাপাল্টি মামলায় এখন ঈশ্বরদীর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

কিছুদিন আগেও যেসব আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতারা ঈশ্বরদীতে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন, যাদের চলাফেরায় শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ত, তারাও এখন নিজ দলের লোকজনের দায়ের করা মামলায় আত্মগোপনে গেছেন।

ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগের দলীয় অভ্যন্তরীণ ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব নিয়ে গত এক মাসে পাঁচটি মামলায় দলেরই শতাধিক নেতাকর্মী আসামি। আরও ‘অজ্ঞাতনামা’ আসামির সংখ্যাও অন্তত অর্ধশত। আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনায় আরও মামলা আছে। ঈশ্বরদী

থানা সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ গত ২ জুলাই রাতে ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টুকে প্রধান আসামি করে ১৮ জনের নামে পুকুরের মাছ লুটের অভিযোগে থানায় মামলা করেছেন ঈশ্বরদী পৌর যুবলীগের সভাপতি আলাউদ্দিন বিপল্গব। এ মামলার বাকি আসামিদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের বিশ্বাস, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক শরিফুল হাসান আরিফ, পৌর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক সানোয়ার হোসেন, পৌর যুবলীগের সাবেক সভাপতি সানোয়ার হাসেন লাবু, পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম রকি, ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি রবি মোল্লাসহ ২০-২৫ জন।

এর আগে গত ১ জুলাই ঈশ্বরদী শহরের মধ্যঅরনকোলা নিবাসী মকবুল হোসেন চুন্নু উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি জুবায়ের বিশ্বাস, কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আরাফাত রাসেলসহ সাতজনের নামে থানায় মামলা করেছেন। ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার লিখিত এজাহারে বাদী মকবুল হোসেন চুন্নু অভিযোগ করেন, গত ২৯ জুন দুপুরে পূর্বশত্রুতার জের ধরে আসামিরা বাড়িতে প্রবেশ করে এবং ভাংচুর করে এক লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে।

গত ১৮ মে বাড়িতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুুবায়ের বিশ্বাসের বাবা আতিয়ার রহমান বিশ্বাস বাদী হয়ে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শিরহান শরিফ তমালসহ ৩২ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। এই মামলায় ভূমিমন্ত্রীর ছেলে শিরহান শরীফ তমালসহ যুবলীগ-ছাত্রলীগের ১১ জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ঈদের আগে তাদের জামিন হয়েছে।

গত বছর ১৪ জুলাই আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ এবং ১৭ জুলাই উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সন্ত্রাস-জঙ্গিবিরোধী মিছিলে আওয়ামী লীগের অপর গ্রুপের হামলা-ভাংচুরের ঘটনায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ঈশ্বরদী। এসব ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা আকাল উদ্দিন সরদার বাদী হয়ে যুবলীগ সভাপতি সালাম খান, ছাত্রলীগ সভাপতি জুবায়ের বিশ্বাসসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৩০ নেতাকর্মীকে আসামি করে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করেন। সর্বশেষ এসব পাল্টাপাল্টি মামলায় ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রাজনীতির মাঠ ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন গ্রেফতার আতঙ্কে।

মন্ত্রী-মেয়রের দ্বন্দ্বের বাইরে থাকা নিষ্ঠাবান আওয়ামী লীগ কর্মীরা খুব মর্মাহত। ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইছাহক আলী মালিথা সমকালকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে পাল্টাপাল্টি মামলায় আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মী আসামি হওয়ায় দলীয় শৃঙ্খলা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। নেতাকর্মীদের কাছে আমরাও বিব্রতবোধ করি।’

জানেত চাইলে ঈশ্বরদী থানার ওসি আবদুল হাই তালুকদার বলেন, আওয়ামী লীগের এসব পাল্টাপাল্টি মামলার আসামিরা কেউই এলাকায় নেই। পলাতক হওয়ায় তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

*