ঈশ্বরদীর মুলাডুলিতে জামের রাজত্ব

0
86

‘ঝড়ের দিনে মামার দেশে আম কুড়ানোর সুখ, পাকা জামের শাখায় চরে রঙ্গিন করি মুখ’। পল্লী কবি জসিম উদ্দিন এর লেখা এই শিশুতোষ কবিতায় প্রাণ জেগেছে মধুমাস জ্যৈষ্ঠে। টসটসে ফলের রসময়তায় জেগেছে উৎসব। ফলোৎসবে লিচুর রাজত্ব প্রায় শেষ হওয়ার পর এখন বাজার সরব করে রেখেছে আম-জাম।

এ বছর পাবনা জেলা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় উৎপাদিত প্রায় অর্ধ কোটি টাকার জাম বেঁচা কেনা হচ্ছে এ অঞ্চলের বৃহৎ সবজি আড়ৎ ঈশ্বরদীর মূলাডুলিতে। ফলের এই ভড়া মৌসুমে প্রত্যাশার অধিক উৎপাদিত জাম সরগরম করে রেখেছে সর্বত্র। মূলাডুলি আড়তে এখন চলছে রসনা রাঙ্গানো ফল জামের রাজত্ব।

বৃহস্পতিবার পাবনা-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা মূলাডুলি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মধ্যম আকৃতির প্লাষ্টিক ঝুড়িতে স্তুপ করে রাখা হয়েছে জাম। বিক্রয়ের জন্য সাজিয়ে রাখা জাম দুর থেকে দেখে মন ভরে যায়। সূর্যের আলো পড়ায় কুচকুচে কলো জামের গায়ে যেন খেলে যায় ঝকমকে বিকিরণ। দৃষ্টিতে প্রাণহরি জাম ফল খেতেও অসাধারণ। সম্পূর্ণ আলাদা স্বাদের এই মৌসুমী ফলের রয়েছে অনন্য বৈশিষ্ট। জ্যৈষ্ঠের মাঝামাঝি সময়ে বৃষ্টির পানি পড়া মাত্রই লাল বরণ হয়ে উঠে জাম গাছ। তারপর পরিপক্কতা আসে এক সাথে। এক সাথে পেঁকে যাওয়ায় খুব অল্প দিনই মেলে ‘জামের শাখায় উঠে মুখ রঙিন করার সুযোগ’। স্বল্পকালীন এই ফলটি তাই সকলের কাছেই বেশ লোভনীয়।

কথা হলো- মূলাডুলি ফল আড়তের আড়ৎদার আমিনুর রহমান বাবুর সাথে। তিনি পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমকে জানান, জামের বাজার স্থায়ী হয় মাত্র ১৫ দিন। এই সময়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে পাইকাররা মূলাডুলি আড়তে আসেন জাম কিনতে। ঈশ্বরদী, দাশুড়িয়া, রাজাপুর, মূলাডুলি ও গোপালপুর ইউনিয়নের বাসিন্দারা তাদের বাড়ির আঙিনায় লাগানো ফল বৃক্ষ থেকে সংগ্রহকৃত জাম বিক্রয়ের জন্য এখানে নিয়ে আসেন। এখান থেকেই ফঁড়িয়া ব্যবসায়ীরা জাম ক্রয় করে বিভিন্ন জায়গায় বাজারজাত করে থাকেন।

জাম ব্যবসায়ী খোকন শেখ পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমকে জানান, মূলাডুলির এই আড়ৎ থেকে প্রতিদিন ২/৩ ট্রাক জাম দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা হয়। মৌসুমের শুরুতে প্রতিকেজি জাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রয় হচ্ছে। এই হিসাবে মূলাডুলি থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫/৬ লাখ টাকার জাম ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট সহ দেশে বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করা হচ্ছে।

জাম বিক্রেতা ফয়েজ উদ্দিন পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমকে জানান, বাড়ির আঙিনায় লাগানো গাছের জাম সংগ্রহ করে আধা/এক মণ করে তারা আড়তে এনে বিক্রয় করেন। বানিজ্যিক ভিত্তিতে জাম চাষের সম্ভাবনার কথা নাকচ করে দিয়ে তিনি জানান, অল্প পরিসরে অপরিকল্পিত ভাবে জাম চাষ হওয়ায় বাজারে জামের কদর রয়েছে। জামের অধিক সরবরাহ থাকলে এ কদর থাকবে না।

পাবনা কৃষি অধিদপ্তরের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রওশন জামাল পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমকে জানান, কৃষকের বাড়িতে কাঠের উদ্দেশ্যে লাগানো জাম গাছে অযত্নেই জাম ফল বেড়ে ওঠে। গাছ গুলি যেহেতু বড় আকৃতির হয় এবং ফলের পরিচর্যা, সংরণ ও সরবরাহ কষ্টসাধ্য বিষয় হওয়াই ক্ষুদ্রাকৃতির জাম ফল বাণিজ্যিক ভাবে চাষের তেমন কোন সম্ভাবনা নেই। তার পরেও পাবনার অর্থনীতিতে জাম এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

*