উৎপাদন খরচ ২৯৯, বিক্রি প্রতিকেজি ৬০ টাকা

0
29

এই অঞ্চলের অন্যতম শিল্প প্রতিষ্ঠান ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়ায় অবস্থিত পাবনা চিনিকলে বর্তমানে অবিক্রিত চিনি পড়ে আছে ৪ হাজার ১৯০ মেট্রিক টন। প্রতি টন ৬০ হাজার টাকা হিসেবে এই পরিমাণ চিনির দাম ২৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা।

লোকশানি এই মিলটি চালু রাখতে সরকারকে প্রতিবছর ভর্তুকি দিতে হয় ৩৭ কোটি টাকা। এই মিলে উৎপাদিত চিনি প্রতি কেজি বিক্রি দর ৬০ টাকা অথচ এর উৎপাদন খরচ পড়ে ২৯৯ টাকা।

১৯৯৬ সালে চালু হওয়ার পর থেকে আজও লাভের মুখ দেখেনি পাবনা চিনিমিল। ৬০ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত এই মিলের মূল উপাদান আখ চাষের জন্য নিজস্ব কোনো জমি বা খামার নেই। কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে আখ চাষ করাতে হয়। অনেকক্ষেত্রে আখের উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দাম না পাওয়ায় কৃষকরা আখ উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।

ফলে অভাবে মৌসুমে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মিল চালু রাখা সম্ভব হয় না। এতে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয় না। সবজি এবং ফল আবাদে লাভ বেশি থাকায় আখের প্রতি আগ্রহী নয় কৃষকরা।

চিনিমিলের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম তোফাজ্জল হোসেন বলেন, গতবছরের তুলনায় এবার আখ চাষ আরও কমেছে। গত বছর আবাদ হয়েছিল ৪ হাজার ১১৫ একর, এবার হয়েছে ৩ হাজার ৬০১ একর। এভাবে কমতে থাকলে আখের অভাবে মিল চালানো দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে। গত মৌসুমে মাত্র ৩৯ দিন মিল চালু রাখা সম্ভব হয়েছে।

মিলে অব্যাহত লোকশান হলেও প্রতি মাসে শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বেতন বাবদ দিতে হয় ৯০ লাখ টাকা। এই মিলে শ্রমিক-কর্মচারী আছেন ৮৭২ জন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, শুধু চিনি উৎপাদনের ওপর নির্ভর করে এই মিল চালানো যাবে না। এর বহুমুখী ব্যবহারের কথা ভাবতে হবে। যেমন জুস তৈরি, কোমল পানীয় ইত্যাদি। এছাড়া কাঁচামাল হিসেবে শুধু আখ নয়; বিকল্প ব্যবস্থাও তৈরি করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

*