বিপিএল চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্

0
600

বিপিএলের শেষটা হলো শুরুর সাথে মিল রেখেই। দুটোরই একই নাম ‘রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা’। ২২ নভেম্বর টুর্নামেন্টের প্রথম দিন ও মঙ্গলবার শেষ দিনে থাকলো ১ বলে ১ রানের স্নায়ুক্ষয়ী ধ্রুপদী লড়াই। সেদিন রংপুর রাইডার্স হেসেছিল। মঙ্গলবার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ভাসলো বাঁধনহারা উল্লাসে।

অলক কাপালির শর্ট ফাইন লেগে ফিল্ডারের হাতেই গিয়েছিল। থ্রো আসার আগেই কুলাসেকেরা স্ট্রাইকে আর অলক কাপালি চলে গেছেন নন স্ট্রাইকে। ততক্ষণে বড় পর্দায় লেখা হয়ে গেছে, বিআরবি বিপিএল চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। অলক কাপালির বীরোচিত ব্যাটিংয়ে ফাইনালে বরিশাল বুলসকে ৩ উইকেট হারিয়েছে কুমিল্লা। আবারও মাশরাফির হাতে উঠলো বিপিএলের ট্রফি। টানা তৃতীয়বার নড়াইল এক্সপ্রেস জিতলেন বিপিএল। হলো না মাহমুদউল্লাহর প্রতিশোধ নেয়া।
প্রথমে ব্যাট করে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও শাহরিয়ার নাফিসের দৃঢ়তাপূর্ণ ব্যাটিংয়ে ৪ উইকেটে ১৫৬ রানের পুঁজি গড়ে বরিশাল। জবাবে ৭ উইকেটে ১৫৭ রান করে ম্যাচ জিতে নেয় মাশরাফির কুমিল্লা।

শেষ ১২ বলে ২৩ রান দরকার ছিল কুমিল্লার। কেভন কুপারের করা ১৯তম ওভারের প্রথম দুই বলে স্টিভেন্স (৮), অধিনায়ক মাশরাফির (০) বিদায় খাদের কিনারে ঠেলে দেয় কুমিল্লাকে। তবে ওই ওভারের শেষ দুই বলে দুটি চার মেরে নাটকীয়তার সূচনা করেছিলেন অলক কাপালি। শেষ ৬ বলে ১৩ রানের ¯œায়ুক্ষয়ী পরীক্ষার শুরুতেও হোঁচট খেয়েছিল কুমিল্লা। প্রথম বলেই দুই রান নিতে গিয়ে রানআউট হন শুভাগত হোম (১)। তৃতীয় ও চতুর্থ বলে দুটি চার মেরে পাশার দান উল্টে দেন অলক কাপালি। পঞ্চম বলে ২ ও শেষ বলে ১ রান নিয়ে বরিশালকে হতাশায় পোড়ান অভিজ্ঞ কাপালি। ২৮ বলে ৫টি চারে অপরাজিত ৩৯ রান করেন কাপালি।

ইনফর্ম ইমরুল কায়েসের ব্যাটে প্রত্যাশিত সূচনাই পেয়েছে ১৫৭ রানের টার্গেটে খেলতে নামা কুমিল্লা। যদিও বরাবরের ন্যায় লিটন দাস (৩) উইকেট বিলিয়ে ফিরেছিলেন দলীয় ২৩ রানে। ইমরুলের ব্যাটে ছিল আত্মবিশ্বাসের বহ্নিছটা। উইকেটের চারপাশে দর্শনীয় সব বাহারি শটের পসরায় বরিশালকে টালমাটাল করে দিয়েছিলেন এ বাঁহাতি। দ্বিতীয় উইকেটে আহমেদ শেহজাদের সঙ্গে ৫৪ রানের জুটি গড়েন তিনি।

নবম ওভারে ইমরুলের পুরনো হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট চাড়া দিয়ে উঠে। তখন তিনি ৩৬ রানে। চোটের থাবার পরও ১৭ রান করেছেন, যেখানে আছে সেকুগে প্রসন্নকে পরপর দুই বলে লং অন দিয়ে মারা দুটি ছক্কা। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে সাব্বিরের হাতে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় ইমরুলের অসাধারণ ইনিংস। ৩৭ বলে ৫৩ রান (৬ চার, ৩ ছয়) করেন তিনি। তার আগে অবশ্য শেহজাদ ২৪ বলে ৩০ রান করে আউট হয়েছিলেন।

প্রাথমিক চাপটা কাটালেও ইমরুলের বিদায়ের পর ধীরে ধীরে রান-বলের চাপে পড়ে যায় কুমিল্লা। সেটা আরো ঘনীভূত হয় দলীয় ১১৬ রানে আশার জাইদি (১৬) রানআউট হলে। শেষ দিকে মাশরাফি, স্টিভেন্স, শুভাগত ফিরলেও অলক কাপালির হার না মানা ব্যাটিংয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় কুমিল্লা। বরিশালের মাহমুদউল্লাহ ও কুপার ২টি করে উইকেট নেন।

টসে হারা বরিশালের ইনিংসের গতিপথ ঠিক করে দিয়েছিলেন সেকুগে প্রসন্ন। পরে যা অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও শাহরিয়ার নাফিসের ব্যাটে বয়োবৃদ্ধি পেরিয়ে পরিণতির দিকে এগিয়েছে। তৃতীয় উইকেট জুটিতে তারা টি-২০’র রীতি অনুযায়ী ধন্ধুমার ব্যাটিং করেননি, আবার হাফ সেঞ্চুরিও করেননি কেউ। তবে দল ঠিকই পেয়েছে চ্যালেঞ্জিং স্কোর। ১৫তম ওভারেই একশো পার হয় বরিশালের স্কোর। শেষ ৬ ওভারে ৬৮ রান তুলে দলটি।

মাহমুদউল্লাহ-শাহরিয়ার ৮১ রানের জুটি গড়েন। ইনিংসের শেষ ওভারে স্লগ সুইপ খেলতে গিয়ে কুলাসেকেরার বলে বোল্ড হন মাহমুদউল্লাহ। ৩৬ বলে ৪৮ রান (৬ চার, ১ ছয়) করেন তিনি। ৩১ বলে ৪৪ রান (২ চার, ৩ ছয়) করে অপরাজিত ছিলেন শাহরিয়ার নাফিস।

তাদের আগে ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই আশার জাইদির বলে এলবির ফাঁদে কাটা পড়েন মেহেদী মারুফ (১১)। ব্যক্তিগত ২১ রানে অলক কাপালির হাতে জীবন পাওয়া সেকুগে প্রসন্ন ৩৩ রান (২ চার, ২ ছয়) করেই স্টিভেন্সের বলে বোল্ড হন। সাব্বির (৯) ফিরেছিলেন মাশরাফির বলে বোল্ড হয়ে। কুমিল্লার মাশরাফি, স্টিভেন্স, কুলাসেকেরা ও জাইদি ১টি করে উইকেট পান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

*