যাজক হত্যাচেষ্টায় পাঁচজন গ্রেপ্তার, পুলিশের দাবি সবাই জেএমবির সদস্য

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঈশ্বরদী ডটকম// ঈশ্বরদীতে গির্জার যাজক লুক সরকারকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ বলছে, তারা সবাই জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য। তারাই যাজককে হত্যার পরিকল্পনা করে। তাদের কাছ থেকে জঙ্গি কর্মকাণ্ড বিষয়ক কিছু বই পাওয়া গেছে।

আজ সোমবার (১৫ ডিসেম্বর, ২০১৫) সকালে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানানো হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা ওই ব্রিফিংয়ে ছিলেন। তাঁরা হলেন শরিফুল ইসলাম ওরফে তুলিব, আব্দুল রাকিব, মো. আলিম, আমজাদ হোসেন ও জিয়াউর রহমান। তাঁদের মধ্যে রাকিব যাজককে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। সিরাজগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার আলমগীর কবিরের ভাষ্য, ওই পাঁচজন জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরে তাঁরা জেএমবির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। প্রায় দেড় বছর ধরে পাবনায় দলটি সংগঠিত হয়। জেলায় জেএমবির কমান্ডারের দায়িত্বে রয়েছেন রাকিবুল হাসান ওরফে রাব্বি। তিনি পলাতক। তাঁরা পাবনা শহর ও আশপাশের এলাকায় থাকতেন। রাব্বির নেতৃত্বে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ মাঠে মাঝে মধ্যে বৈঠক হতো। সম্প্রতি দলের উচ্চপর্যায় থেকে সরকারকে আন্তর্জাতিকভাবে চাপের মুখে ফেলার জন্য নির্দেশ আসে। সে অনুযায়ী তাঁরা একজন বিদেশি বা ভিন্নধর্মী মানুষকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন। পরে তাঁরা রাব্বির পরিকল্পনা অনুযায়ী লুক সরকারকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। দুই দফা লুক সরকারের সঙ্গে কথা বলে ধর্মবাণী শোনানোর নামে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পাবনার সহকারী পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) সিদ্দিকুর রহমান, ঈশ্বরদী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এস এম আবু যাহিদ ও ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিমান কুমার দাস।

ওসি বিমান কুমার দাস বলেন, ঈশ্বরদী থানা-পুলিশ, পাবনা জেলা পুলিশ ও ঢাকা পুলিশের সদর দপ্তর থেকে এলআইসি শাখার সদস্যরা এই অভিযান চালান। পাবনার পুলিশ সুপার আলমগীর কবির অভিযানের নেতৃত্ব দেন। পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তির জন্য পাবনা সদর থেকে ঈশ্বরদী থানায় নেওয়া হবে।

৫ অক্টোবর সকালে ঈশ্বরদীর যাজক লুক সরকারের বাসায় ঢুকে দুর্বৃত্তরা হত্যার চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় লুক সরকার বাদী হয়ে ওই রাতে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের নামে একটি মামলা করেন। পরদিন পুলিশ ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের আওতাপাড়া গ্রাম থেকে ওবায়দুল নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে। ওবায়দুল জেলহাজতে রয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

*