ফলো আপ: সাহাপুরে সেই নির্যাতিতা নারীর আত্মহত্যার চেষ্টা অতঃপর বিদায়

0

ঈশ্বরদীর সাহাপুরে স্ত্রীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে শ্বশুর বাড়িতে এসে গৃহবধূ সুমি খাতুন এবার তার আপন চাচা শ্বশুর আমিরুল ইসলামের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করার পরও থাকতে পারেনি শ্বশুর বাড়িতে। রোববার স্থানীয়ভাবে আয়োজিত এক শালিস বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে জামালপুর তার মামার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত শুক্রবার বিকেলে ঈশ্বরদীর দিয়াড় সাহাপুরের ওই বাড়িতে একইভাবে এক শালিস বৈঠকের মাধ্যমে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হবে শুনে গৃহবধূ সুমি গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। তবে প্রতিবেশি আলী হোসেন জানালা দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে শাড়ি বেঁধে সুমির আত্মহত্যা করার প্রস্তুতির দৃশ্য দেখে চিৎকার-চেঁচামেচি করলে আশেপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গৃহবধূ সুমিকে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে কৌশলে সরিয়ে দিতে দুইজন মেম্বার ও স্থানীয় কিছু লোকজনদের ডেকে শুক্রবার বাড়িতে ‘শালিস’ বৈঠকের আয়োজন করে সুমির চাচা শ্বশুর আমিরুল ইসলাম ও ফজলুর রহমান মাস্টারসহ ওই বাড়ির লোকজন। এখবর শুনে সুমি তার নিজ ঘরের ফ্যানের সঙ্গে শাড়ী বেঁধে আত্মহত্যা করতে উদ্যত হয়। এসময় ওই বাড়িতে সাহাপুর ইউনিয়নের দুই মেম্বার সাজেদুল ও শাহীনসহ স্থানীয় লোকজনরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) রাত ১২টার দিকে তার চাচা শ্বশুর আমিরুল ইসলাম ৩ যুবককে সাথে নিয়ে সুমিকে তার ঘর থেকে টেনে হিঁচড়ে জোর করে মোটর সাইকেলে তুলে ঈশ্বরদী বাস টার্মিনালে নিয়ে যায়, রাস্তায় তাকে অমানুষিকভাবে শারিরিক নির্যাতন করে তারা। তার পেটের সন্তানকে নষ্ট করে দিতে পেটে লাথি মারলে প্রচন্ড ব্যাথায় অসুস্থ্য হয়ে পড়ে সে। ওই রাতে মুলাডুলিতে আমিরুল তার এক আত্মিয়ের বাড়িতে রেখে শুক্রবার তাকে সাহাপুরে নিয়ে এলে এলাকাবাসী ঘটনাটি টের পেয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পরদিন এ ঘটনা শুনে এলাকার শত শত মানুষ ওই বাড়ির সামনে জড়ো হয়। একপর্যায়ে আমিরুলকে তার ভাস্তি জামাই অমি বেদম পিটিয়ে আহত করার পর গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এঘটনা নিয়ে গত রোববার থেকে ‘অন্তঃসত্ত¡ার প্রতি এ কেমন আচরণ!’ শিরোনামে বিভিন্ন পত্রিকায় ছবিসহ রিপোর্ট ছাপা হলে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। সুমির চাচা শ্বশুর আমিরুল ইসলাম বলেন, এবাড়িতে সুমির স্বামী, শ্বশুর-শ্বাশুড়ি কেউ নেই, তারা সবাই সৌদি আরবে থাকে, তারা আগামী মাসে দেশে আসার পর বিষয়টির সমাধান হবে।
এদিকে সুমি অভিযোগ করে বলেন, তার চাচা শ্বশুর আমিরুল ইসলাম ও ফজলুর রহমান তাকে এ বাড়ি থেকে সরিয়ে দিতে নানাভাবে হুমকি ও ষড়যন্ত্র করায় তিনি সবসময় নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন, যেকোন সময় তিনি অনাকাঙ্খিত ঘটনার শিকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা করার একপর্যায়ে রোববার শালিস বৈঠক করে তাকে একাকী বাসে উঠিয়ে দিয়ে জামালপুরে তার মামার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। রোববার বিকেলে সুমি সাংবাদিকদের নিকট জানায়, স্থানীয় একজন মেম্বার ও তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন বাড়িতে এক শালিস বৈঠক করে একমাসের খরচ বাবদ ১০ হাজার টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়ে তাকে বাসে উঠিয়ে বাড়ি থেকে বিদায় করে দিয়েছে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সৌদি আরব থেকে তার স্বামী-শ্বশুর-শ্বাশুড়ি দেশে ফিরে এলে সুমি তার স্বামীর বাড়িতে থাকবে কি থাকবেনা সে বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে জানায় সে। এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দীন বলেন, থানায় কেউ অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।