ঈশ্বরদীর বেনারসি পল্লী

ঢাকা মিরপুরের বাইরে দেশের দ্বিতীয়তম স্থান দখল করে আছে পাবনার ঈশ্বরদীর বেনারসি পল্লী। ঈদকে সামনে রেখে এ পেশায় জড়িত প্রায় তিন হাজার নারী ও পুরুষ । বর্তমানে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন সপ্তাহে হাজারও পিস শাড়ি তৈরি কাজে । সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাবনার ঈশ্বরদীর ফতে মোহাম্মদপুর রয়েছে বেনারসি পল্লী। প্রায় ৪শ’তাঁতের বিপরীতে তিন হাজার শ্রমিক রকমারি ধরণের পুঁতি ও কারচুপির কাজ হাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ এলাকার বসবাসরত কয়েক হাজার বেনারসি তাঁতিদের অর্থনৈতিক এবং শিল্পের প্রসার লাভের আশায় বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড ২ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি পল্লী স্থাপন করে।

এ পল্লীতে ৯০টি প্লট এর মধ্যে ৫৯ টি প্লটের দলিল হস্তান্তর করা হলেও বর্তমানে সেখানে ৭/৮টি প্লটে তাঁত শিল্প স্থাপন করা হয়েছে। এর বাহিরে স্থানীয় ফতে মোহাম্মদপুরে রয়েছে ৪ শতাধিক তাঁত কল। একজন বেনারসি শ্রমিক সপ্তাহে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা আয় করেন। বেনারসি শ্রমিকরা জানান, একটি শাড়ি তৈরি করতে একজন শ্রমিকের ৩/৪দিন সময় লাগে। এবারের ঈদকে সামনে রেখে বেনারসি পল্লীতে লেহেঙ্গা,আনারকলি ও ফুলকলি শাড়ি ছাড়াও নেট কাতান,পিওর কাতান,জামদানী, কুমকুম, জানেবাহার, জর্জেট, সহ টাঙ্গাইল শাড়ির উপর নানা বাহারি সাজের কারুকাজ সমৃদ্ধ নানা দরের শাড়ি তৈরিতে পারদর্শী ঈশ্বরদীর বেনারসি পল্লীর নারি ও পুরুষ শ্রমিকেরা।

তারা বেনারসি থেকে শুরু করে রাজধানী ঢাকার নামিদামি দোকানীদের চাহিদা অনুযায়ী চলে শাড়ির উপর দামের ধরণ অনুযায়ী নিত্য নতুন ডিজাইনে পাথর,জড়ি,চুমকি,মুক্তা বসিয়ে,সেলাই কাজে ব্যস্ত দিনরাত। প্রতি সপ্তাহে তৈরি করছে তাঁরা ১ হাজার পিস শাড়ি। ঈশ্বদীর কারিগরদের নকশাকরা শাড়ি বোম্বে শাড়ি হিসেবে ঢাকার বড় বড় শপিং মল গুলোতে বিক্রি হয় ২০ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। জাবেদ বেনারসি জানান, ঈদ আসলে সারা বাংলাদেশ থেকে কম বেশি অর্ডার আসে।

ঢাকার বাহিরে রাজশাহী,পাবনা,খুলনা,কুষ্টিয়া,নাটোর,টাঙ্গাইল ইত্যাদি জেলা থেকেও তারা অর্ডার পেয়ে থাকে।ঈদেও একমাস আগে থেকেই তারা ব্যস্ত সময় পাড় করতে শুরু করেছে। এ ব্যাপারে পাবনা চেম্বার অব কমার্স এর সিনিয়র সহ সভাপতি,মাহবুবুল আলম মুকুল বলেন,ভারত থেকে কিছু অসাধু ব্যাগেজ পাটি ভারতীয় শাড়ি নিয়ে এসে আমাদের ঈশ্বরদীর ঐতিহ্যকে ধ্বংস করছে।একাধারে ৩ হাজার পরিবার কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে।এবং এই শাড়ির অত্যান্ত গুণগত মান ভালো,আমরা আশা করবো,পাবনা চেম্বার অব কর্মাসের পক্ষ থেকে অবৈধ ভাবে পণ্য প্রতিরোধ করে আমাদের ঈশ্বরদীর কাতান,বেনারসি সিল্ককে ধরে রাখবে। আশা করি প্রশাসন এ ব্যপারে জোড়ালো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

*