কমরেড জসীম উদ্দিন মন্ডল

মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে তার রাজনৈতিক জীবনে ছিলেন আপোষহীন শ্রমিক ও কমিউনিস্ট নেতা কমরেড জসিম উদ্দিন মন্ডল। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যেকোন সমাজিক-রাজনৈতিক কর্মসূচীতে যোগ দেওয়া তার কাছে ছিল পরম আনন্দের। এমন নির্মোহ ও প্রাণবন্ত উপস্থিতি আমাদের রাজনীতিতে একেবারেই বিরল। বড় বড় নেতারাও তার কাছে আসত বক্তব্য শোনার জন্য। তিনি ছিলেন একজন ভালো বক্তা। তিনি রাজনৈতিক জীবনে ১৭ বছর জেল খটেছেন।

কমরেড জসিম উদ্দিন মন্ডল ১৯২২ সালে তৎকালিন নদীয়া জেলার কালিদাসপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবার রেলওয়েতে চাকরি করার সুবাদে ওই সময় বাংলাদেশ-ভারতসহ বিভিন্ন অঞ্চলে থাকতে হয়েছে তাকে। ঈশ্বরদীর সাঁড়া মাড়োয়াড়ী উচ্চবিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় বাবা শিয়ালদহে বদলি হলে সেখানে গিয়ে আর পড়ালেখা হয়নি তার।

মাত্র ১৮ বছর বয়সে ১৯৪০ সালে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন তিনি। তার পরপরই রেলওয়ের চাকরিতে যোগ দেন। চাকরি জীবনে অনেক আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন তিনি।

তিনি মাত্র ১৩ বছর বয়সে কলকাতায় ট্রাম শ্রমিকদের আন্দোলনে শরীক হয়েছিলেন। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে মুসলিম লীগের মিছিল ভালো না লাগায় কমিউনিস্টদের লাল ঝান্ডার মিছিলে ভিড়ে যান। পাকিস্তান সৃষ্টির পর রেশনে চাউলের পরিবর্তে খুদ দেওয়া শুরু হয়। তিনি খুদবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলেন। তৎকালীন শ্রমিকনেতা জ্যোতি বসু তাঁর খুদবিরোধী আন্দোলন সমর্থন করেন। আন্দোলন তুঙ্গে উঠলে, তাঁর নেতৃত্বে একদিন ঈশ্বরদীতে রেল লাইন উপড়ে ফেলা হয়। থেমে যায় রেলের চাকা। সেদিনই খুদের পরিবর্তে চাল দেওয়া শুরু হলো। আন্দোলন বিজয়ী হলো, কিন্তু আন্দোলনের নায়ক জসীম উদ্দিন মন্ডল কারাগারের অন্ধ প্রকোষ্ঠে নিক্ষিপ্ত হলেন। তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া হলো রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা। জেলে গিয়ে তিনি ঘানি টানার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন। শাস্তিসরূপ তাঁকে উলঙ্গ করে মাঘের শীতে ঠান্ডা পানিতে চুবিয়ে রাখা হয়।এই আন্দোলনেও তিনি বিজয়ী হন। ঘানি টানা বন্ধ হয়। কিন্তু আন্দোলনের নেতাকে ৭ বছর জেলের ভাত খেতে হয়।

কমরেড জসীম উদ্দিন মন্ডল স্বাধীনতা ও মেহনতী মানুষের আন্দোলন পরিচালনা করতে যেয়ে ব্রিটিশ আমলে ২ বছর, পাকিস্তান আমলে ১৩ বছর আর বাংলাদেশে জিয়ার আমলে ২ বছর-মোট ১৭ বছর কারাবাস যাপন করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

*