শামসুর রহমান শরিফ ডিলু

ইউনিয়ন চেয়ারম্যান থেকে মাঠ পর্যায়ে রাজনীতি করে মন্ত্রী হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করলেন পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শরিফ ডিলু। একই সাথে তিনি পাবনা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্বও তিনি সফল ভাবে পালন করছেন। তার বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে অনেকবার কারাবরন করতে হয়।

ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা ও জামাতা আবুল কালাম আজাদ মিন্টু জানান, শামসুর রহমান শরিফ ডিলু পাবনা জেলা স্কুলের ৫ম শ্রেনীর ছাত্র থাকাবস্থায় ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের জন্যে মিছিলে গিয়ে মিছিল থেকে গ্রেফতার হন। তার পর প্রত্যক্ষ ভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে সে ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষিকুন্ডা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তারপরই সক্রিয় ভাবে সে রাজনিতীতে জড়িয়ে পরেন। ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ক্রমান্নয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারন সম্পাদক, সভাপতি ও পরে ২০০৬ সালে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির মনোনীত হন এবং বর্তমানেও সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।  ইতিপূর্বে তিনি ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর তৎকালীন সরকারের আমলে টানা ৫ বছর কারারুদ্ধ ছিলেন এবং এরশাদ সরকারের আমলেও তিনি কারাগার বরন করতে হয় বলে জানান তার স্ত্রী কামরুন্নাহার শরীফ। তিনি সর্বপ্রথম ১৯৭৯ সালে পাবনা-৪ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশ গ্রহন করে পরাজিত হন। পরে ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে তার নির্বাচনী ফলাফল সেনাবাহীনি ছিনিয়ে নেয় বলেও তার পরিবার দাবী করেন।

১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তে পাবনা-৪ আসনে তাকে মনোনয়ন না দিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিববে মনোনয়ন দেয় আওয়ামীলীগ। তারপরেও তিনি দলের কান্ডারী হয়ে কাজ করেছেন জন মানুষের জন্যে। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে দল তাকে মনোনয়ন দিলে সে বিপুল ভোটের ব্যাবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০১, ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির অভ্যন্তরীন কোন্দলের কারনে ২ জন করে প্রার্থী থাকায় খুব সহজেই বিজয়ের মালা তার গলায় ওঠে। তিনি একাধারে ৩ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও তাকে কখনও মন্ত্রীত্ব দেওয়া হয়নি। সর্বশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি পাবনা-৪ আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার পরে আজ রবিবার বিকেলে বঙ্গভবনের দরবার হলে পূর্ন মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহন করেন। পরবতীর্তে তাকে ভূমি মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়।

তিনি মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহনের পরপরই তার নিজ এলাকায় অনেকেই আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরন করেছেন।

তার এই বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে সর্বক্ষন শক্তি ও সাহস জুগিয়েছেন তার স্ত্রী কামরুন্নাহার শরীফ। তিনি বলেন, অনেক সময় সন্তানদের মুখে স্বামীর রাজনীতির জন্যে অনেক কথা শুনতে হয়েছে।

ব্যাক্তি জীবনে শামসুর রহমান শরীফ ডিলু ৫ মেয়ে ও ৫ ছেলের গর্বিত পিতা। ছেলে মেয়েরা স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত বলেও জানান তার স্ত্রী কামরুন্নাহার শরীফ।

এদিকে আমাদের ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া প্রতিনিধিরা জানান, পাবনা-৪(আটঘরিয়া-ঈশ্বরদী) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আ.লীগের সভাপতি শামসুর রহমান শরিফ ডিলু এমপি গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমীমন্ত্রী হওয়ায় তার নির্বাচনী এলাকা ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়ায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছেন তার কর্মী সমর্থকরা।
ঈশ্বরদীতে আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ অঙ্গসংগঠনের তার শপথ নেয়ার পরপরই নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

*